ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

কেনো প্রয়োজন 'প্রাথমিক শিক্ষা প্রকৌশল'?

মোঃ আসাদুজ্জামান

২০২০-১১-০৬ ২৩:৩১:৩৪ /

চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময় অতিক্রম করছি আমরা। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে দেশের সরকারি প্রাথমিকের অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ । ইতিমধ্যেই বরাদ্দ প্রদান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকের অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারসহ সকল কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয় দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। একটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ও অপরটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের মাধ্যমে।

পূর্বে প্রাথমিকের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সম্পাদিত হতো শিক্ষা প্রকৌশলের মাধ্যমে। শিক্ষা প্রকৌশল এখানও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করে থাকে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) শুধুমাত্র শিক্ষা প্রকৌশল (ফ্যাসিলিটিজ) এর মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও সংস্কার করেনা। ন্থানীয় সড়ক, ব্রীজ ও বিভিন্ন সরকারী অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সম্পাদন করে থাকে।

প্রয়োজনীয় জনবল স্বল্পতা ও বহুমূখী কাজের কারণে এলজিইডি 'র পক্ষে সঠিকভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ে প্রাথমিকের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না। স্থানীয় সরকারের সাথে সরাসরি সস্পৃক্ত বিধায় অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ সম্পাদন করাও সম্ভব হয়না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল সাধারণত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে তেমন পারদর্শী নয়। তাদের মূল কাজ মূলত স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রাথমিকের বর্তমান ওয়াশব্লক এর সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ। ফলে দেখা যায় দেশের অনেক স্থানেই যথাযথ ও পরিকল্পিতভাবে ওয়াশব্লক নির্মিত হচ্ছেনা।

সরকারী এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বহুমূখী ব্যস্ততার কারণে প্রাথমিকের শিক্ষকদের উন্নয়ন কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত হতে শুরু করে কাজের তদারকি ও প্রতিবেদন প্রাপ্তিতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ সম্পাদন করলেও উৎকোচ প্রদানে বাধ্য হন অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এসএমসি। এ দুটি কার্যালয়ে গিয়ে অনেক শিক্ষক লাঞ্ছিত ও অপমানিতও হয়েছেন।কারণ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের নিকট তাদের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্র খুবই সীমিত।

এসকল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে স্বতন্ত্র 'প্রাথমিক শিক্ষা প্রকৌশল'। বর্তমানে সারাবছরই প্রাথমিকের অবকাঠামো নির্মাণ বা মেরামত-সংস্কার চলমান থাকে। নিজস্ব অর্থের সর্বাধিক ও মানসম্মত ব্যবহারে এবং শিক্ষকদের অহেতুক হয়রানি রোধে বর্তমান প্রেক্ষাপটে 'প্রাথমিক শিক্ষা প্রকৌশল' বিভাগ চালু করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক

শিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা গণনায় জটিলতা

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা গণনায় জটিলতা

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারদের অসহযোগিতায় ১৩তম গ্রেড বাস্তবায়নে বিড়ম্বনা!

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারদের অসহযোগিতায় ১৩তম গ্রেড বাস্তবায়নে বিড়ম্বনা!

EFT ফরম পূরণেও বুঝা গেলো যে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদটি ৩য় শ্রেণির!

EFT ফরম পূরণেও বুঝা গেলো যে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদটি ৩য় শ্রেণির!