ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১

যে কাজের স্বীকৃতি দিবেন স্বয়ং আল্লাহ্

মুহাঃ খালেকুজ্জামান

২০২১-০৪-২০ ২২:১২:৪৯ /

মানুষ মাত্রই সফল হতে চায়। সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে চায় শীর্ষে। চেষ্টা-প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও কীর্তিতে অর্জন করতে চায় সর্বোচ্চ সম্মান।

যা স্বভাবজাত। সফলতার প্রথম সোপানটা অবশ্য শুরু হয় কিছু আবেগিক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দ্বারা। যেমন ধরুন- স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন, প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, প্রথম সনদ অর্জন, নতুন চাকুরি পাওয়া, অফিসের প্রথম দিন, প্রথম বেতন, প্রথম বিয়ে, বিয়ের প্রথম দিন, প্রথম বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানি হওয়া, নতুন বাড়ি-গাড়িতে প্রথম দিন, প্রথম প্রমোশন, প্রথম বিদেশ সফর, প্রথম সন্তানের বিয়ে, প্রথম কোন সংস্থার প্রতিনিধিত্ব লাভ, প্রথম এমপি-মন্ত্রী হওয়া প্রভৃতি।

মানব জীবনে সফলতার ক্ষেত্র অবশ্য দুইভাবে বিবেচ্য, যথা- এহকালীন ও পরকালীন। এহকালীন জীবনের সফলতা ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও কর্মজীবন নির্ভর। তাঁর, কর্ম ও শ্রমের স্বীকৃতি যখন সে পায়, তখন সে নিজেকে সফল ও সৌভাগ্যবান মনে করে। স্বপ্ন সাগরের পার্থিব সুখ ও গৌরব অনুভবে ধন্য হয়। যদিও তা খুবই সাময়িক। আরও মজার বিষয় হলো, তাঁর এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। একেবারে সোনায় সোহাগা। যেমন- ডিসি, এসপি, ডিডি, ডিজি, এমপি, মন্ত্রী, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক। তাহলে ভাবুন একবার, অনুভূতির পারদ কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে। পেপার পত্রিকা, টিভি, মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারে, মনের অজান্তেই সে মত্ত হয়ে উঠবে এবং তা হওয়ায় স্বাভাবিক।

আবার, তেমনিভাবে পরকালীন জীবনের সফলতা নির্ভর করে, ব্যক্তির এহকালীন জীবনের সামগ্রিক সফলতার কর্মকালের কীর্তির উপর। পরকালেরও কযেকটি ধাপ আছে। যেমন- মৃত্যু, কবরজীবন/আহলে বারযাক, হাশর, মিযান ও পুলসিরাত ইত্যাদি। যার পাথেয় হচ্ছে সফল ও সঠিক আমল।

এখানে দুটি কথা বলা প্রয়োজন যে, আপনি যদি নবিন কোন শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন করেন তাঁদের জীবনের লক্ষ্যে কী? স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা বিভিন্ন পার্থিবও উত্তর দিবে। কিন্ত কেউই বলবে না যে, তাঁর উদ্দেশ্য জান্নাত। আর এটাই সফলতার মূল ঘাটতি! ধরুন, আপনি কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকে গেলেন জমাদানের জন্যে কিন্ত ক্যাশিয়ার বললেন, আপনার সব টাকাই জাল। ভাবুন, এই টাকা কি আপনার কোন উপকারে আসবে? উত্তর, না। তদ্রুপ, পরকালের সফলতার স্বীকৃতি নির্ভর করবে সঠিক ঈমান ও আমলের উপর। ডিগ্রী, যশ,খ্যাতি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি যাই থাক না কেন টাকার মতো জাল ঈমান ও আমল কোন কাজে আসবে না। তাই, মুসলিমের জীবনে, মাহে রমযান হচ্ছে সর্বোচ্চ হাদিয়া। আমলকে খাঁটি বানান সফল হবেন, মহাস্বীকৃতি পাবেন ইনশাআল্লাহ। এখানে বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন যে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার/স্বীকৃতি গ্রহন যেমন আপনাকে মহাআনন্দে ভাসায়, যদিও এখানে পুরস্কারটা বিবেচ্য নয়, প্রধান মন্ত্রীর হাতটি বিবেচ্য। তার থেকেও মহাবিবেচ্য এইযে,পবিত্র মাহে রমযানের পুরস্কার স্বয়ং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজ হাতে দিবেন। কি দিবেন তা বিবেচ্য নয়, মহান রাব্বুল আলামিন স্বয়ং নিজ হাতে দিবেন। এটাই মহাসাফল্যে, মহাপুরস্কার আর মুমিনের জন্যে সফলতার মহাস্বীকৃতি।

লেখকঃ সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার

হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ।

বিডি-শিক্ষা// আলম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

জুমাতুল বিদা : করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে বিশেষ মোনাজাত

জুমাতুল বিদা : করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে বিশেষ মোনাজাত

যে কাজের স্বীকৃতি দিবেন স্বয়ং আল্লাহ্

যে কাজের স্বীকৃতি দিবেন স্বয়ং আল্লাহ্

জীবনসায়াহ্নে  এসে মহানবীর ৭ অসিয়ত

জীবনসায়াহ্নে এসে মহানবীর ৭ অসিয়ত