ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১

বাড়িতে গিয়ে নয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়েই পাঠদানে আগ্রহী প্রাথমিক শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক

২০২১-০৪-২৭ ১৫:৫৯:৩৬ /


'শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হবে' শিরোনাম কয়েকটি পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ার পর শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষক এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টস করে যাচ্ছেন। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন, বর্তমানে  করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই পরিস্থিতে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পাঠদান করার সিদ্ধান্ত মোটেই সঠিক নয়। বাড়িতে যাওয়ার পর কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে তখন এর দায় কে নিবে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক শিক্ষক বাংলাদেশ শিক্ষাকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেন বিদ্যালয়েই পাঠদান করতে আগ্রহী কিন্তু কারো বাড়িতে গিয়ে নিজের জীবন ও পরিবারের উপর ঝুঁকি নিতে চাননা।

এ দিকে বাড়িতে গিয়ে পাঠদানের বিরোধীতা করে শিক্ষকরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টস করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। পাঠকদের জন্য নিচে কয়েকটি তুলে ধরা হল।

সাইদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেন ,আমি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গেলে যদি করোনা বিস্তারের সম্ভাবনা না থাকে তাহলে শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এলেও করোনা বিস্তারের সম্ভাবনা থাকবে না। তাই বিদ্যালয় খোলা হোক। শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে হয়রানির হাত থেকে রেহাই দিতে কর্তৃপক্ষের বিবেচনা পূর্বক সিদ্ধান্ত নেওয়া জন্য অনুরোধ করছি।

আব্দুল্লাহ ফারুক মন্তব্যে লিখেন, উদ্ভট চিন্তা!করোনা পরিস্থিতি উপযোগী হলে শ্রেনী বিভাজন করে বিদ্যালয়ে এসে সীমিত পরিসরে পাঠদান কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

কেয়া খানম লিখেন,শিক্ষকরা যদি করোনা বাড়ি গিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে আসে তখন?কারণ বেশির ভাগ শিক্ষক দূর দূরান্ত থেকে যানবাহনে করে যাবে।তখন এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ঠেকাবে কে?

মহসিন জাহান মন্তব্য করেন, আমাকে স্কুলে পাঠদানের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাড়ী যাওয়া র জন্য না।ওসব বাড়ি তে আমার নিরাপত্তা কে দিবে?স্কুল   খোলে দিক পাঠদানের জন্য আমি  প্রস্তুত।

ফাজানা রুমা লিখেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে পড়ালে কি করোনার সংক্রমণ  হবে না? এর চেয়ে স্কুল খুলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করাই বেশি ভালো হবে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল কাশেম বাংলাদেশ শিক্ষাকে বলেন, শিক্ষকরা সপ্তাহে একদিন পাঠ্য বইয়ের আলোকে নেপ কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ার্কশিট যে কোন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌছে দিয়ে মোবাইলে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।কিন্তু বাড়িতে গিয়ে পাঠদান করতে গেলে শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই আমি মনে করি বর্তমান করোনা সংক্রমের ঊর্ধ্বগিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাড়িতে পাঠিয়ে পাঠদানে বাধ্য করা ঠিক হবেনা।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহি সভাপতি জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশ শিক্ষাকে বলেন, আগে জীবন পরে শিক্ষা।বর্তমান পরিস্থিতে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য চিন্তা ভাবনা করা যেতে পারে তবে সেটা হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে। বিশেষ করে করোনার এই মহামারিতে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবেনা যাতে অভিভাবক,শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মারত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়ালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপুর্ণ হবে।বিশেষ করে শহর অঞ্চলের অভিভাবকরা এই পরিস্থিতিে হয়তো শিক্ষকদের বাড়ি এসে পাঠাদানের ব্যপারে অনিহা প্রকাশ করতে পারেন। এর চেয়ে  প্রতিদিন একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের নিয়ে এসে স্বাস্থ্যিবিধি মেনে পাঠদান করালে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকবে এবং পাঠদান ফলপ্রসু হবে বলে আমি মনে করি।

বিডি-শিক্ষা /এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই মা ছেলেকে সংবর্ধনা দিল শিক্ষক সমিতি

পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই মা ছেলেকে সংবর্ধনা দিল শিক্ষক সমিতি

করোনা পরিস্থিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেভাবে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম

করোনা পরিস্থিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেভাবে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম

বকেয়াসহ ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা: ডিজি

বকেয়াসহ ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা: ডিজি