ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে ২৫৫ কিমি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি আসা কে এই শিক্ষিকা!

স্টাফ রিপোর্টার

২০২১-০৫-১৪ ০০:৪১:৩০ /

মৌসুমি আক্তার এপি তালুকদার
ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাইসাইকেলে দীর্ঘ ২৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে  গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন ঢাকায় শিক্ষকতা করা মৌসুমি আকতার এপি তালুকদার। তার স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও এলাকাবাসীরা তার এ সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

 বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকার মৃত আবদুল হাকিম তালুকদারের মেয়ে মৌসুমি আকতার এপি তালুকদার । তিনি এপি তালুকদার নামে পরিচিত।

এপি তালুকদার গত ২০১৮ সালে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। ঢাকায়  থেকে বনানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তিনি  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারি, সাইক্লিস্ট, অ্যাথলেট ও ম্যারাথনিস্ট। ছোটবেলায় বাইসাইকেল চালানো শিখেছেন। বর্তমানে তিনি একজন সাইক্লিস্ট। প্রত্যেকটি প্রতিযোগিতায় তিনি সাফল্য অর্জন করেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে ট্রেন ও দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ।তাই তিনি স্কুল থেকে ছুটি পেলেও বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কীভাবে ঈদ করবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় তিনি গণপরিবহন না গিয়ে সাইকেলে বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৩ মে বিকাল ৫.৩৩ মিনিটে তিনি ঢাকার গোলাপবাগের বাসা থেকে বাইসাইকেলে যাত্রা শুরু করেন। সাথে নেন প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র।

পথিমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছোট ভাই সিরাজগঞ্জের মীর রাসেলও তার সঙ্গে যোগ দেন। তারা দুজন সাইকেল চালিয়ে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে আসেন। সেতুতে হেঁটে বা বাইসাইকেলে পারাপারের সুযোগ না থাকা তারা একটি কার্গোতে সেতুর পশ্চিম পাড়ে আসেন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভুঁইয়াগাড়ি এলাকায় পৌঁছলে সঙ্গী রাসেল বাড়িতে চলে যান। এরপর তিনি একাই ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাইসাইকেল চালিয়ে ৪ মে শেষ রাতে বগুড়ার কলোনি এলাকায় পৌঁছেন।

সেখানে তার বান্ধবী মালার বাড়িতে সেহরি শেষে সকাল ৬.১০ মিনিটে বগুড়ার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকায় বাড়ির দিকে রওনা হন। প্রায় ১৪ ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বেলা ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে পৌঁছেন। তবে বৃষ্টির কারণে তার যাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।


মৌসুমি আক্তার এপি তালুকদার জানান, লকডাউনের কারণে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ। গণপরিবহনে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই তিনি তার ‘ভালোবাসা’ বাইসাইকেলে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ যাত্রা ছেলেদের জন্য সহজ হলেও মেয়েদের জন্য খুব সহজ নয়। শুধু নাড়ির টানে রোজা রেখে ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা তার শখ পূরণ করেন। মনোবল শক্ত থাকার কারণে রাতে মহাসড়কে একা সাইকেলে চালালেও তার মনে ভয় আসেনি।

তিনি আরো জানান, মহাসড়ক ছয় লেন হওয়ার কারণে তার সাইকেল চালাতে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে যমুনা সেতুতে অনুমতি না থাকায় তিনি তার সহ-সাইক্লিস্ট কার্গোতে পার হয়েছেন।

এপি তালুকদার এমন দু:সাহসিক চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় সফল হতে সমাজের নারীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র সার্জিস আলম রতন জানান, এপি তালুকদার নারী হয়েও যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা অভাবনীয়। তিনি রোজা রেখে, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে বাইসাইকেলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এমন সাহসিকতা অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিডি-শিক্ষা/এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

নালিতাবাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃৃতিবিজরিত বিধবা  পল্লীতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নালিতাবাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃৃতিবিজরিত বিধবা পল্লীতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

করোনা আক্রান্ত হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

করোনা আক্রান্ত হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে চলছে একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান

সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে চলছে একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান