ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে যা বললেন ডা. দেবি শেঠি

বিডিশিক্ষা অনলাইন ডেস্ক

২০২১-০৫-১৫ ১৫:০০:৫৯ /

ডা. দেবি শেঠি- ফাইল ছবি
করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ গোটা বিশ্বকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নতুন নতুন এলাকায় যেমন ছড়িয়ে পড়ছে তেমনি কোথাও কোথাও চলছে ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ। বিশ্ববাসীর সথে আমাদেরও মনে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো কতদিনে আমরা নিষ্কৃতি পাব এর সংক্রমণের ভয়াবহতা থেকে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে অন্যান্য দেশের সাথে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। সেখানে এখন সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন চার হাজার লোকের মৃত্যু হচ্ছে।

এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. দেবি শেঠি। সম্প্রতি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি করোনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন আগামী বছরের মাঝামাঝি কমতে পারে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা, পূর্বের মহামারি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন,তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় , তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে সব থেকে আশঙ্কা ছোটদের নিয়ে। কারণ, ততদিনে বয়স্কদের টিকা নেওয়া হয়ে যাবে। অধিকাংশেরই ইমিউনিটি থাকবে। কিন্তু শিশুদের টিকাগ্রহণ তখনো হবে না। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বেশি। তাই এখন থেকেই জোর দিতে হবে কমবয়সী বাবা-মায়ের টিকা নেয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বয়স্ক মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সমস্যা কম। কেউ যদি অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকেন তা হলে চব্বিশ ঘণ্টা অ্যাটেন্ডেন্ট লাগে না। কিন্তু কোনো কোভিড আক্রান্ত শিশু অক্সিজেন বেডে বা আইসিইউতে থাকলে সে সব সময়ে তার বাবা-বা মাকে পাশে চাইবে।

দেবী শেঠি আরও বলেন, আমার সারাটা জীবন আমি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বানাতে লাগিয়ে দিয়েছি। হার্ট সার্জারির পর শিশুদের দেখভালের জন্য তা জরুরি। তাই শিশুরা কোভিড আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেন বেড বা আইসিইউ বেডে থাকলে কী বায়না করতে পারে, আমার থেকে ভালো কেউ জানে না। তাই ততদিনে তার বাবা বা মায়ের টিকাগ্রহণ হয়ে যাওয়া উচিত। যাতে আইসিইউতে তারা সন্তানের পাশে থাকতে পারেন।

ডা৷ শেঠি বলেন, ঢেউ এলে আরও কয়েক লাখ ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক লাগবে। একটা বিষয় বুঝতে হবে—গত এক বছর ধরে কোভিড সামলাতে সামলাতে ডাক্তার-নার্সদের একটা বড় অংশ ক্লান্ত। আবারও বলছি বয়স্ক রোগীদের সামলাতে তাদের অতটা বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তা হলে শিশুরা আক্রান্ত হবে। তখন এই ক্লান্ত ওয়ার্কফোর্স দিয়ে তাদের সামলানো যাবে না। সেকারণে নিয়োগ করতে হবে নতুন জনবল।

করোনা থেকে বাঁচতে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি জানান ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বা গবেষণা না করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। এ জন্য দেশ বিদেশের সব ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে এখনই কথা বলতে হবে। টাকা আগাম পেলে সবাই ভ্যাকসিন বানাতে রাজি হবে। এ ব্যাপারে দেশের সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি-শিক্ষা// আলম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

তিমির পেটে গিয়েও যেভাবে জীবিত বেরিয়ে এলেন তিনি

তিমির পেটে গিয়েও যেভাবে জীবিত বেরিয়ে এলেন তিনি

বাংলাদেশকে টিকা দেবার বিষয়ে যা জানালো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশকে টিকা দেবার বিষয়ে যা জানালো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

করোনার ভারতীয় একটি প্রজাতির জন্য উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

করোনার ভারতীয় একটি প্রজাতির জন্য উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা