ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের ভার্চুয়াল সভায় নিয়োগবিধি-২১ প্রত্যাখ্যান

বাংলাদেশ শিক্ষা রিপোর্ট

২০২১-০৭-১৫ ১৬:০২:৫৫ /


গতকাল ১২জুলাই, মঙ্গলবার বিকাল ৪ ঘটিকায় বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ, রেজি-এস ১২০৪৮ এর উদ্যোগে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরী ভাচুর্য়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 সংগঠনের সভাপতি শাহিনুর আল-আমীন-এর সভাপতিত্বে এ ভাচুর্য়াল সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: মায়েদুল হক বসুনিয়া তূর্য ও মো: মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন। তিনি বলেন, নতুন নিয়োগ বিধিমালায় আমাদেরকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষক চাকুরী জীবনের একেবারে শেষ পযার্য় গিয়ে সাধারণত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। অনেক সহকারী শিক্ষকের ভাগ্যে সেটাও জোটে না । তিনি আরো বলেন, নিয়োগবিধিতে শিক্ষকদের জন্য কোন সুখবর নেই বরং দু:সংবাদ আছে।

নতুন নিয়োগবিধিতে বলা হয়েছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার/সহকারী ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি পদে ৮০% বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রধান শিক্ষাকগণ নিযোগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবেন, তবে বয়স ৪৫ এর বেশি নয়। যেহেতু সাধারণ প্রার্থীদের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে তাহলে তো এটা পদোন্নতি হলো না।

শিক্ষক নেতা আব্দুল ওহাব সুমন তার বক্তব্যে বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে দাবী করে আসছি সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হবেন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি আর কোন নিয়োগ হবে না। সাবেক সচিব মহোদয় এ বিষয়ে বলেছিলেন, আর কোন দিন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হবে না।

তিনি আরো বলেন,ধরে নিলাম প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি হবে। যদি তা হয়ও, তাহলেও একজন সহকারী শিক্ষক তার চাকরীর শেষ বয়সে এসে প্রধান শিক্ষক হবেন। কিন্তু বয়সের বারের কারনে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের কারনে  কখনোই কোন শিক্ষক আর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হতে পারবেন না। তাই,আমরা চাই সহকারী শিক্ষকদেরও বিভাগীয় প্রার্থীতার সুযোগ দিতে হবে।সচিব কমিটিতে অনুমোদিত নিয়োগবিধি শিক্ষক বান্ধব না হওয়ায় আমরা প্রত্যাখান করলাম। 

সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব মাসুদ রানা বলেন, একজন প্রাথমিক শিক্ষক যে পদে যোগদান করেন ঐ পদ থেকেই সাধারণত তাকে অবসর নিতে হয়। কারণ তার ভাগ্যে কোন পদোন্নতির সুযোগ আসে না। মাত্র ১৫ ভাগ সহকারী শিক্ষক চাকুরী জীবনে একবার পদোন্নতি পান। সেটাও আবার স্ব-বেতনে। এই কারণে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চায় না এবং আসলেও থাকতে চায় না। এটা এখন মেধাবীদের একটা ট্রানজিট পেশায় পরিণত হয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী শতভাগ প্রমোশন চালু না করলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ মানসম্মত শিক্ষক এই পেশায় থাকছে না। আর যারা আছেন তাদের পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ যোগাতে অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বিঘ্নিত হয় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা।

যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিবুল হক নসুনিয়া লজ্জাকর টিফিন ভাতা নিয়ে বলেন, আমরা এই অপমান জনক, লজ্জাকর, হাস্যকর টিফিন ভাতা সরকারের কাছে প্রতিবাদ হিসাবে ফেরত দিতে চাই। সভায় উপস্থিত সকল সদস্য এক বাক্যে বলেন, অচিরেই আমরা এই অসম্মান জনক ২০০টাকা টিফিন ভাতা চালানের মাধ্যমে প্রতিবাদ হিসাবে ফেরত দিব। 

সভায় সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব মো: মায়েদুল হক বসুনিয়া তূর্য সংগঠনের ১৫টি দাবি উত্থাপন করেন এবং তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন।
 

দাবি সমূহ:

১. সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নিধার্ারণ করতে হবে ২. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দ্রুত বাস্তবায়নসহ মহা-পরিচালক পর্যন্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে ৩. প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত বিভাগীয় নীতিনিধার্রনী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে
৪.জাতীয় আয়ের ৬% অথবা মোট বাজেটের ২০% অর্থ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিতে হবে ৫. প্রতি তিন বছর পরপর স্বয়ংক্রীয়ভাবে শ্রান্তি বিানোদন ভাতা দিতে হবে  

৬. নন-ভ্যাকেশনাল ঘোষণা করে সরকারের অন্য ডিপার্টমেন্টের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে ৭. প্রথম যোগদানের তারিখ ধরে জাতীয় পযার্য়ে একটা গ্রেডেশন করতে হবে ৮. ১৩তম গ্রেড বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন করতে হবে ৯. ডি পি এড প্রশিক্ষণাথর্ীদের প্রশিক্ষণভাতা দ্রুত ছাড় দিতে হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার ফলে যাদের বেতন কমেছে, তাদের বেতন দ্রুত উচ্চধাপে ফিক্সেশন করতে হবে। যেহেতু এটা একটা দেড়বছরের প্রশিক্ষণ কোর্স, তাই প্রশিক্ষণোত্তর স্কেল ফিরিয়ে দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে উচ্চধাপে বেতন নিধার্রণ করতে হবে 

১০. চাকুরী ২বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রীয়ভাবে স্থায়ী করণের ব্যবস্থা থাকতে হবে ১১. নাম মাত্র টিফিন ভাতা মাসিক ২০০টাকার স্থলে দৈনিক নূণ্যতম ১০০টাকা হারে উন্নিত করতে হবে ১২. সকল শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতা দিতে হবে ১৩. ইএফটিতে বেতন হওয়া সত্বেও শিক্ষকগণ সরকার ঘোষিত গৃহর্নিমাণ ঋণ পাচ্ছেন না। শিক্ষকদের শর্তবিহীন গৃহনিমার্ণ ঋণ দিতে হবে 

১৪.  বিদ্যালয়ে স্লিপ ও সরকারি অন্যান্য বরাদ্দের অর্থ প্রধান শিক্ষক ও এসএমসির সভাপতির যৌথ একাউন্টে না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধির যৌথ একাউন্টে দিতে হবে ১৫. মাসিক সমন্বয় সভায় সহকারী শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সংগঠনের জেলা, উপজেলা ও বিভাগের প্রতিনিধিগণ তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। খুলনা বিভাগের প্রতিনিধি মো: ইমরুল সাহেদ ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে বেতন কমে যায় এটা অমানবিক ও অযৌক্তিক, দ্রত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সভপতি তার সমাপনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকতা পেশাটি এখনও আমাদের দেশে তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে এই পেশায় আসতে অনীহা প্রকাশ করে। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকতার পেশাকে আর্কষণীয় করে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে এই পেশায় নিয়ে আসতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এসব প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বাড়বে এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান নিবার্চন কমিশনার জনাব একেএম খসরুজ্জামান, অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মো: মনসুর আলম টিপু, আল মেরাজ, মো: আমিনুল হক বাবু, মো: আতিকুল ইসলাম, মো: আজিজার রহমান মিল্টন, মো: কবির উদ্দিন, জেএম তাওহীদ হোসেন, মো: মহিদুল ইসলাম, মো: সোলায়মান কবির, মো: আব্দুল ওহাব সুমন, মো: রফিকুল ইসলাম, পংকজ দত্ত, মো: মিল্টন শেখ,আবে কাওছার জাহান, মো: একলাচুর রহমান, মো: সেলিম হোসেন, বিজয় কুমার ঘোষ, মো: মনিরুজ্জামান শিপন, মো: দিদার হোসেন, , কাকলি সরকার, মো: আরিফুল ইসলাম সরকার রুবেল, মো: আসাদ শান্ত, আ: ওদুদ প্রামানিক, মো: সোহরাওয়ারদী মানিক, মো: মাহমুদুল হক রুবেল, রেজাউল রানা, মো: ফারুক হোসেন, আতাউল বারি আপেল, মো: সাইফুল ইমাম মোহন, মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাদল, মো: আলী মোর্তজা, জামিল প্রধান, মো: শহিদুল্লাহ, ফজলে রাব্বি, এস এম রাশেদুল আক্তার, রিয়াদ রাসেল, মো: আজহার হোসেন, বাসুদেব, সিরাজুল ইসলাম, ফিরোজ সাই,মো: কেরামত আলী, মো: ইকবাল হোসেন, আবুল কাসেম, মকলেসুর রহমান, মো: ফারুক বসুনিয়া, মো: জাহেদুল, মো: ইসমাইল হোসেন, মো: মনির, মো: ইসরাফিল, মো: রুহুল ইসলাম, আবু তাহের, ফিরোজ মন্ডল, জাবেদা ইসরাত, মাজেদা বেগম  প্রমুখ। 

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ-এর পক্ষে সংগঠনের  মিডিয়া সম্পাদক মো: মমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ শিক্ষার কাছে প্রেস রিলিজের কপি প্রেরণ করেন।

বাংলাদেশ শিক্ষা/এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

গণটিকাদান কার্যক্রমে শিক্ষকদের সহযোগিতার নির্দেশনা

গণটিকাদান কার্যক্রমে শিক্ষকদের সহযোগিতার নির্দেশনা

ডেঙ্গু রোধে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য যে নির্দেশনা দিল ডিপিই

ডেঙ্গু রোধে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য যে নির্দেশনা দিল ডিপিই

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি