ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

প্রসঙ্গ: সমন্বিত নিয়োগবিধি-২০২১

আছমাউল আলম

২০২১-০৭-১৬ ১৪:৩৭:০৯ /


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্রমান্বয়ে উচ্চপদের সুযোগ - সুবিধা নিয়ে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা তুলে ধরছি।

এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভিন্ন নিয়োগ বিধি প্রবর্তনের জন‍্য প্রথমেই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।এ মন্ত্রণালয়টি মূলত দেশের নাগরিকদের জন‍্য তাদের মৌলিক অধিকার  প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করে।এই প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গড়ে তুলে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আবার তিন রকমের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।যেমন,পরিচালক থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত ক‍্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ।অন‍্যদিকে,বিভাগীয় উপ-পরিচালক থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পর্যন্ত  নন-ক‍্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।যদিও তারা পিএসসি কর্তৃকই নিয়োগপ্রাপ্ত।

যাহোক,এবার ক্লার্ক শ্রেণি বা অফিস স্টাফদের আলোচনা না করে মূল কথায় আসা যাক।অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের কথা।তাদের নিয়োগের ধরন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছি।
সর্বশেষ নিয়োগ বিধি ২০১৯ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পুরুষ - মহিলা উভয়ের যোগ‍্যতাই সমান অর্থাৎ ২য় শ্রেণির স্নাতক।তাদের গ্রেড ১৩তম।প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের শিক্ষকদের সমগ্রেড অর্থাৎ ১৩ তমই।অন‍্যদিকে,সমযোগ‍্যতার প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেড(প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণবিহীন)।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত প্রশিক্ষণ।কিন্তু সেই দক্ষতা বিষয়ক সেই মহামূল‍্যবান প্রশিক্ষণ গ্রেড এই বিধিতে রহিত করা হয়েছে যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন‍্য বুমেরাংও হতে পারে!তাছাড়াও দেখা যাচ্ছে যে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ‍্যেও গ্রেডবৈষম‍্য বিদ‍্যমান।অর্থাৎ সহকারী শিক্ষকদের এখানে ১২তম গ্রেড বাঞ্ছনীয় ছিল।

এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা।সহকারী শিক্ষকদের শূন‍্য পদগুলো সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে,আর প্রধান শিক্ষকদের শূন‍্য পদগুলো পূরণ দুটি ভাগে বিভক্ত।৬৫℅ পদোন্নতির মাধ‍্যমে আর ৩৫℅ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে।

এখানে কিছু ন‍্যায‍্য কথা বলা জরুরি।যেখানে পূর্বের সকল সহকারী শিক্ষকই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় দক্ষ সেখানে বাইরে থেকে ৩৫℅ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।অর্থাৎ এখানে অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষকদের ন‍্যায‍্য অধিকার হরণ করা হয়েছে।তাই সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির ব‍্যবস্থা করা উচিত।
এবার আলোচিত প্রসঙ্গ নিয়ে দুটি কথা-উল্লিখিত নিয়োগ বিধিতে প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে ৮০℅ বিভাগীয় প্রার্থীতার সুযোগ রাখা হয়েছে যেখানে বয়স শিথিলযোগ্য নয়।অর্থাৎ ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয়!

এখানে কিছু কথা না বললেই নয়।পূর্বে উক্ত পদে সহকারী শিক্ষকগণও বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।কিন্তু এই নিয়োগ বিধিতে তা রহিত করা হয়েছে।ফলে সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

যাহোক,আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী স্কুল পর্যাপ্ত নয়।তাই প্রধান শিক্ষক পদও সীমিত আকারে শূন‍্য হয়।ফলে একই নিয়োগের বেশিরভাগ  সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির আওতায়ও আসে না।তাছাড়া গড়ে প্রতি উপজেলার সহকারী শিক্ষকগণ ২০-২২ বছর পর পদোন্নতির আওতায় এসে থাকেন।তখন তাদের বয়সও ৪০ -৪২ বছর হয়ে যায়।

আলোচ‍্য নিয়োগ বিধি ২০২১ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়।তারপর জাতীয়ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করে পরবর্তী কাঙ্ক্ষিত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।নতুন নিয়োগ বিধায় পূর্ব পদের সময়কাল জ‍্যেষ্ঠতার জন‍্য গণনাযোগ‍্য নয়।তাই পরবর্তী পদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি পাওয়া আর অরণ‍্যে রোদন একই কথা।

তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে।যে প্রধান শিক্ষকগণ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে বিভাগীয় উপ-পরিচালক পর্যন্ত কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে সমন্বয় সাধন করে মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করে থাকেন,তাদেরকে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে নয়,বরং বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির সিস্টেম চালু করতঃ পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগ বিধি ২০২১ এ সংশোধনী আনা যেতে পারে।

অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরতে হবে এবং তাদের নিয়োগও পিএসসি কর্তৃক সম্পন্ন হতে হবে।তারপর সহকারী শিক্ষক থেকে ক্রমান্বয়ে  বিভাগীয় উপ-পরিচালক পর্যন্ত বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ‍্যমে পদোন্নতির ব‍্যবস্থা করে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণে কর্তৃপক্ষের টেকসই ও উপযুক্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক: সহকারী শিক্ষক
উছমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কুলিয়ারচর,কিশোরগঞ্জ।

বাংলাদেশ শিক্ষা/এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সমন্বিত নিয়োগবিধি সংশোধন চায় ঐক্য পরিষদ

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সমন্বিত নিয়োগবিধি সংশোধন চায় ঐক্য পরিষদ

প্রসঙ্গ: সমন্বিত নিয়োগবিধি-২০২১

প্রসঙ্গ: সমন্বিত নিয়োগবিধি-২০২১