ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

যে কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার

বাংলাদেশ শিক্ষা ডেস্ক

২০২১-০৭-১৭ ০১:৫৪:৪৫ /


দেশে করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়নি। ভার্চুয়াল ক্লাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও খুব বেশি কাজে আসেনি। ফলে মহামারিকালে স্কুল-কলেজের কোনো পাবলিক পরীক্ষায়ও বসতে পারেনি  শিক্ষার্থীরা।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, এখন শিক্ষার সংকট বিশ্বব্যাপী। ইউনিসেফ-ইউনেসকো অতি সম্প্রতি বলেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে, শিক্ষার সংকট বিপর্যয়কর হতে পারে। তারা আরও বলেছে, স্কুল খুলে দিলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সবকিছু বিবেচনায় খুলে দেওয়া দরকার। কিন্তু দেশে এখন সংক্রমণের যে হার এবং এখন মৃত্যুর সংখ্যাও যা, তাতে এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এটি নিশ্চয়ই সবাই মনে করেন। আর এখন করোনার ডেলটা ধরনের পর অনেক শিশুও আক্রান্ত হচ্ছে। এটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। 

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমরা তখনই খুলে দিতে পারব, যখন মনে করব এখন আশঙ্কা অনেক কম। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও মোটামুটি একটি অবস্থায় নিয়ে আসতে পারি, যখন তাদের মাধ্যমে পরিবারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। সংক্রমণের হার কিছুটা কমে গেলে হয়তো প্রস্তুতি নিয়ে খুলতে পারব।’

দীপুমনি বলেন, ‘আমরাও মনে করি যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অবস্থায় শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে ফিরিয়ে নিতে পারব, ততই মঙ্গল। আমরা এখন অনলাইন টিভির মাধ্যমে পাঠদান, অ্যাসাইনমেন্ট এগুলোর কোনোটিই শ্রেণিকক্ষের আদর্শ বিকল্প নয়। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের অনেক সুফল রয়েছে। শুধু সামনাসামনি শিক্ষকের সঙ্গে আদান-প্রদান, বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে শেখা—শুধু এসব সুফল রয়েছে তা–ই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী আসে, তখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে স্বাভাবিক যে সুযোগ থাকে, সেই সুযোগ থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এটি বোঝার জন্য, জানবার জন্য নিশ্চয়ই দাতা সংস্থার মন্তব্যের প্রয়োজন পড়ে না।’

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মাধ্যমে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চলছে।  এছাড়া গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে সংক্রমণ কমে এসেছিল।  সেই অভিজ্ঞতায় আমরা এই সময়ে সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য বেশ কয়েক বার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিলেও করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।বর্তমান পরিস্থিতিতে কবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে তা কেউ বলতে পারছে না।

বাংলাদেশ/এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

‘টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ কর্মস্থলে যেতে পারবে না’

‘টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ কর্মস্থলে যেতে পারবে না’

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরেকদফা বাড়লো

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরেকদফা বাড়লো

উদ্বৃত্ত মোবাইল ইন্টারনেট ডাটা কেটে না নেবার নির্দেশনা

উদ্বৃত্ত মোবাইল ইন্টারনেট ডাটা কেটে না নেবার নির্দেশনা