ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সমন্বিত নিয়োগবিধি সংশোধন চায় ঐক্য পরিষদ

টি এম জাকির হোসেন

২০২১-০৭-১৮ ০০:২১:৪৭ /


সম্প্রতি সমন্বিত কর্মকর্তা নিয়োগ বিধিমালা সচিব কমিটি সভায় অনুমোদন হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকের মর্যাদা ও বেতন যখন সম্মানজনক বাংলাদেশে তার বিপরীতে একজন শিক্ষক, সে কিন্তু প্রটোকলধারী স্যার নয়,সে তো  সকল স্যারের স্যার। বলা হচ্ছে নীতি কথায়,Be proud you are a teacher, nation depends on you. বাস্তবতায় শিক্ষক  depend করছে এক আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। 

অনুমোদনকৃত নিয়োগবিধি নীতিমালায় যা জানলাম তা মোটেও স্বতন্ত্র, নিরপেক্ষ ও আধুনিক স্মার্ট এমনকি সৃজনশীল পরিকল্পনা সমৃদ্ধ নয়।

যে দেশে একজন সচিব মহোদয় নিজেও ৫৮ বছর + বয়সে সিনিয়র সচিব পদে প্রমোশন পেতে পারেন, ভিন্ন দপ্তর থেকে প্রমোশন নিয়ে মাত্র ছয় মাস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শাসন করতে পারেন, তাহলে কর্তৃপক্ষ, তিনি কেন একজন শিক্ষককে পদোন্নতির সিঁড়িতে উঠতে ৪৫ বছর বেঁধে দেওয়ার ভাবনা করার সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করতে পারেন।
যে সময়ে শত শত নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষক BCS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার রেকর্ড আছে,অথচ বর্তমানে সেই প্রাথমিক শিক্ষককে সুকৌশলের শর্তের জাতাঁকলে অসম্মানিত করা হচ্ছে।

অবাক হওয়ায় কথা নয় কেন?

একজন শিক্ষককে ২০-২৫ বছর  শিক্ষকতা করার পর কি যুক্তিতে ৩ বছরে প্রধান শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা লাগবে? তাই যদি হয় তাহলে অবশিষ্ট ২০% এ  যারা আসবে তাদের অভিজ্ঞতা লাগবে না কেন?

তারা যদি অনভিজ্ঞ হয়ে সরাসরি  aueo পদটির প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোর সম্ভব হয় তাহলে ২০-২৫ বছর প্রধান শিক্ষকের সাথে, aueo এর সাথে কাজ করেও প্রধান শিক্ষক হওয়ার তিন বছরের অভিজ্ঞতা কেন লাগবে? এটি যৌক্তিক নয়,যদি লাগেই তাহলে তা ৪৫ বছরের ফ্রেমে বাঁধা থাকবে কেন?

৮০% পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছে অথচ তাকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় যোগ্য প্রমাণ করতে হবে নচেৎ নয়, তা কেন?

একজন শিক্ষক মানেই সে প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব,তিনি একজন ব্যক্তি যিনি ভয়ের ঝাণ্ডা বাজিয়ে শাসন না করে ভালোবাসা ও সৃজনশীল কৌশলে হাজার হাজার সচিব, ডিসি,মন্ত্রী তৈরী করছেন আর পদোন্নতিতে এসে ৪৫ বছরের সীমানা প্রাচীর দিয়ে তাদের দেশ গড়ার ব্রতকে নিরুৎসাহী করা হচ্ছে কেন। যদিও aueo পদটির চেয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন aueu বিহীন প্রধান শিক্ষক সেরা বিদ্যালয় গড়তে পারে অথচ সে যখন দক্ষ হয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে ঠিক তখন তাকে শর্তজুড়ে শিক্ষককে অপমানিত করা হচ্ছে পদোন্নতিতে পিঁড়িতে বসে।

৮০% পদোন্নতি হতে প্রতিযোগিতা হতে পারে শুধু শিক্ষকের সাথে, সেখানে মেধা,প্রজ্ঞা, সৃজনশীলতা, শিক্ষকতার সফলতা, কাজের আন্তরিকতা ইত্যাদি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে যোগ্যকেই পদোন্নতি দেওয়া যেতে পারে। তবে যাদের অর্থাৎ ২০% নিয়োগ পেয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা  মানে একজন শিক্ষককে তার ছাত্রদের সাথে মেধা প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়ে শিক্ষককে অবমূল্যায়ন করা হবে। এতে শিক্ষককে চরম ভাবে অপমান করা হচ্ছে না বলে আমরা মনে করছি। 

একজন শিক্ষক যাকে মেধাবী যাচাই করে নিয়োগ দিয়ে তাকেই তার ছাত্রকে স্যার বলার নীতিমালা তৈরি করছেন,যা মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাই যদি না হয়, তাহলে কেন সরাসরি ডিসি,সচিব,ইউএনও নিয়োগ দেওয়া হয়না?

এতএব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিবেদন করছি যে, আপনারা সঠিক ও সততার সাথে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে, শিক্ষক থেকে সিনিয়রিটি ও অন্যান্য সফল দিক বিবেচনা করে শতভাগ পদন্নোতির নীতিমালার সংশোধন করতে মর্জি হয়। নয়ত লক্ষ লক্ষ শিক্ষক তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে আন্দোলনে নামবে তাতে সন্দেহ নাই। 

হয়ত প্রশাসনের যন্ত্রের দাবা নলে আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারলেও হাজার হাজার শ্রেণি কক্ষের শ্রেণি পাঠদান সক্রিয় রাখার সম্ভব হবে না।কারণ জোর করে শিখানো যায় না,তেমনি আন্তরিকতায় স্বতঃস্ফূর্ত আনাও যায় না।
 
নয়ত আমরা শিক্ষকেরা অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখব না তখনই, যখন আমাদের সতন্ত্র গ্রেড  দিয়ে মাথা উঁচু করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

সর্বোপরি শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তা হবেন একজন শিক্ষক। যে শিক্ষকতা জানল না, সে সফল শিক্ষা কর্মকর্তা হতে পারে না। কারণ একজন ভালো ছাত্রই হতে পারে ভালো শিক্ষক, তেমনি একজন ভালো শিক্ষকই হবে ভালো শিক্ষা কর্মকর্তা।
পরিপত্র নামক হাতিয়ার হাতে নিয়ে শিক্ষককে শাসন করা আর শিক্ষক সুলভ আচরণে শিক্ষককে অনুপ্রাণিত করে মান সম্মত শিক্ষার অর্জন করা একই কথা নয়।

লেখক:টি এম জাকির হোসেন 
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

বাংলাদেশ শিক্ষা/এফএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সমন্বিত নিয়োগবিধি সংশোধন চায় ঐক্য পরিষদ

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সমন্বিত নিয়োগবিধি সংশোধন চায় ঐক্য পরিষদ

প্রসঙ্গ: সমন্বিত নিয়োগবিধি-২০২১

প্রসঙ্গ: সমন্বিত নিয়োগবিধি-২০২১