ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

নানাবিধ সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষক ও পদোন্নতি:মোঃ ফারুক হোসেন

মতামত

২০২১-০৯-০২ ১৪:০৭:০৬ /

ফাইল ছবি

 

যে কোন বৃহৎ কর্মযজ্ঞে ছোটখাটো সমস্যা তেমন প্রভাব পড়ে না,তবে নানাবিধ সমস্যা যখন বিদ্যমান তখন অবশ্যই সেই কর্মযজ্ঞে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সরকারি অন্যান্য অফিসে চাকুরীজীবিদের ন্যায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।কিন্তু অন্যান্য অফিসে যারা চাকুরী করেন তাদের বেতন,পদমর্যাদা ও পদোন্নতির জন্য কোন আন্দোলন বা দেন-দরবার করার তেমন প্রয়োজন হয়না।ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় যথাসময়ে সবকিছু হয়ে যায়।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যতো সমস্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

আমার দেখা উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে একজন অফিস সহকারী পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন সিনিয়র অডিটর।(আমি শুধু উদারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছি,কাউকে ছোট করার জন্য নয়)

যে কোন দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে সরকার মন্ত্রণালয়,অধিদপ্তর থেকে শুরু মাঠ পর্যায় পর্যন্ত দপ্তর বা অফিস ও জনবল রাখেন।তেমনিভাবে প্রাথমিক শিক্ষা,শিক্ষার্থী তথা শিক্ষকবৃন্দের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার আলাদা মন্ত্রনালয়, মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় সচিব,মাননীয় মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়েছে।এর পরও প্রাথমিকে কাজের গতি এখনও বয়স্ক কচ্ছপের গতির ন্যায় চলমান।নিয়োগের ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মাঝে জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ একটা বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগকৃতদের মধ্যে কতিপয় নতুন পরিপত্রের কারণে অর্থাৎ যারা এস,এস, সি পাস শিক্ষক ছিলেন তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন। আবার সরকার শিক্ষাকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়।অবশ্যই এমন নিয়োগেো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়।কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় এই প্রকল্পভুক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নানামুখী সমস্যায় পতিত হয়েছে,হচ্ছে। ফলে নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় মহামান্য আদালতের দারস্থ হোন। অধিকার রক্ষায়শিক্ষকদের মামলার কারণে বহু বছর পদোন্নতি বন্ধ থাকায় পদোন্নতির সূর্য আবার আকাশে দেখা দিয়েছে।পদোন্নতি যাতে আবার দীর্ঘ যাযটে পড়ে সে লক্ষ্যেই কতিপয় রাজস্বের ২/৩জন সহকারী শিক্ষক করা গত ১৫/১০/২০২০ খ্রিষ্টাব্দ আবেদন করেন। আবার পদোন্নতির লক্ষ্যে  গত ১৫/১১/২০২০ নতুন এক পরিপত্র জারি করা হয়,ফলে আবারো দেখা দিলো নতুন সমস্যা। 

অথচ সব আইনি ধাপ পর্যবেক্ষণ করেই কর্তৃপক্ষ রাজস্ব,প্রকল্প সবাইকে স্ব স্ব নিয়োগ বিধি মোতাবেক দিলেন চলতি দায়িত্ব।এরই মাঝে সর্বশেষ পদোন্নতি নীতিমালা মোতাবেক আইডিএ/এডিবি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকাতে কোথাও আসছে ২০০৫/৬/৭ খ্রিষ্টাব্দে!ফলে প্রক্লপভুক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ প্রাগম ও প্রাশিঅ এ তাদের প্রথম নিয়োগ-যোগদান থেকে পূর্বের ন্যায় চাকুরীকাল গণনা করে জ্যেষ্ঠতা প্রাপ্তির জন্য অনুরোধ করেন।কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন সাড়া না দেয়ায় তারা মহামান্য আদালতের দারস্ত হলেন।

এরই মাঝে আবার নতুন সমস্যার সৃষ্টি হলো,যার নাম "বহিরাগত" শিক্ষক।বদলীকৃত শিক্ষকগণ নতুন কর্ম্থলের যোগদান থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হচ্ছে!তারাও অবশেষে মামলার দিকে এগুচ্ছেন।
এ ছাড়াও প্রাক-প্রথমিক,পূল,প্যানেল শিক্ষকদের মধ্যেও জ্যেষ্ঠতা জটিলতা দেখা দিযেছে।প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকগণ কনিষ্ঠ হচ্ছেন উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক।তারা ৪/৫ বছর পূ্বে যোগদান করলেও পুল ও প্যানেল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কনিষ্ঠ হচ্ছেন যা তারা মেনে নিতে নারাজ,ফলে তাদেরও সম্ভাবনা রয়েছে মহামান আদালতের দারস্ত হওয়ার! মোট কথা রাজধানী ঢাকার রাস্তার যানযটের ন্যায় প্রাথমিকে পদোন্নতির গাড়ির চাকাও নানাবিধ সমস্যায় যানযটে আটকে যাচ্ছে। 

সুতরাং উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষকের প্রথম যোগদানই হতে পারে নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য সমাধান, নতুবা একটার পর একটা সমস্যার সৃষ্টি,আবার মামলার যানযট সৃষ্টি হবে,সুনিশ্চিত। 

কিছুদিন আগে নেত্রকোনার পদোন্নতির পরিপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলো।অবশ্য এখানে প্রকলাপ ও নতুন সমস্যা বহিরাগত নামরণের কোনো শিক্ষক ছিলেন না।বাকি ৬৩ জেলায় যারা দীর্ঘদিন পদোন্নতির অপেক্ষায় তাদের সন্তান, আত্নীয় ও অন্যান্যরা যখন প্রশ্ন করে যে; তোমার পদোন্নতির কী খবর? এর কোন উত্তর ঐ শিক্ষক দিতে না পারলেও মনের অযান্তে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে দু'চোখে পানি জমে। সেজন্য উত্তরটা আমাদের কর্তৃপক্ষের নিকট বিনয়ের সাথে জানতে চাই আর কতো সমস্যার সৃষ্টি হবে আর কতো সমাধান করবেন?না কি এভাবেই একটার পর একটা সমস্যা আরো সৃষ্টি হতেই থাকবে?সারাজীবনে একটা মাত্র পদোন্নতি তার জন্য আর কতো লজ্জিত হতে হবে শিক্ষক!

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের জীবনে অর্জিত সব প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে সুনিপুণভাবে ঐ কাজ সমাপ্ত করতে সক্ষম। কিন্তু কেন তাদের বেতনস্কেল, পদমর্যাদা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুবিধার জন্য আন্দোলন করতে হয়! তাই বিনয়ের সাথেই  প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বত কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন, জাতি  পড়ার মূল কারিগর প্রাথমিক শিক্ষকদের উন্নয়নের জন্য ও নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণপূর্বক সমস্যা চিহ্নিত করণ ও তা সমাধানকল্পে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনে সদয় হোন।

শিক্ষকের নানাবিধ সমস্যা সমাধান হলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সুনিশ্চিত। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ প্রাথমিক শিক্ষকদের উপরোক্ত সমস্যাবলী দূর করার ব্যবস্থা করুন তবেই দেশ ও জাতির উন্নয়ন অনিবার্য। পদোন্নতির সমস্যাগুলি নিরসন করে অতিদ্রুত সারাদেশে একসাথে পদোন্নতি দেয়ার লক্ষ্যে শিক্ষকদের কোন ভূমিকার প্রয়োজন হলে অবশ্যই শিক্ষক সমাজ সব সময় প্রস্তুত,ইনশাআল্লাহ।

শারীরিক ও মানসিকভাবে শান্তি একজন মানুষের কর্মস্পৃহা বাড়ায়। সুতরাং নানাবিধ সমস্যার সমাধান না করলে,শিক্ষকরা হতাশায় ভুগবেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের মূল কারিগর শিক্ষকদের নানাবিধ সমস্যার সমাধানকল্পে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এমনটাই বিনীত প্রত্যাশা।

লেখক:আইসিটি সম্পাদক
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি,
কেন্দ্রীয় কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

নানাবিধ সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষক ও পদোন্নতি:মোঃ ফারুক হোসেন

নানাবিধ সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষক ও পদোন্নতি:মোঃ ফারুক হোসেন

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিগগিরই খুলে দেওয়া জরুরি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিগগিরই খুলে দেওয়া জরুরি

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি

২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে শিক্ষাগত যোগ‍্যতায় সংস্কার জরুরি