ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

বিনা পয়সার শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২১-১০-০৬ ১৪:১২:৪১ /

মীরা বালা দত্ত


 
মীরা বালা দত্ত বড়লেখা উপজেলার ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। চার বছর আগে অবসর গ্রহণ করলেও নিঃস্বার্থভাবে এখনও নিয়মিত স্কুলে যান, অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। তবে তিনি পাঠদানের জন্য স্কুল থেকে নেন না কোনো পারিশ্রমিক। 

 মীরা বালা দত্ত শুধু একজন সফল শিক্ষকই নন, পারিবারিকভাবে একজন সফল মাও। দুই ছেলের একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার, অপরজন সরকারি কর্মকর্তা। দুই পুত্রবধূর একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ও অন্যজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সফল এ শিক্ষক শারীরিক সক্ষমতা সাপেক্ষে আজীবন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো বিলিয়ে দিতে চান। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারইগ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ী রণজিৎ কুমার দত্তের স্ত্রী মীরা বালা দত্ত ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি উপজেলা সদরের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন। সেখান থেকেই ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু তার কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের সঙ্গে এমনভাবে মিশেছিলেন, একদিনের জন্যও তাদের ছাড়া নিজেকে ভাবতে পারেননি।

বিশেষ করে বছরের এক-তৃতীয়াংশ সময় অবশিষ্ট থাকতে তার অবসরগ্রহণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে ভেবেই তিনি পরদিন থেকেই নিয়মিত স্কুলে পাঠদান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসএমসি, প্রধান শিক্ষক ও অন্য সহকর্মীরাও তাকে ছাড়া এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করেন। তার এ প্রস্তাবে সবাই খুশি হন। তবে তিনি শর্ত দেন তার পাঠদানের জন্য স্কুল থেকে তাকে কোনো পারিশ্রমিক দিতে পারবেন না। 

এভাবেই বিনা বেতনে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মীরা বালা দত্ত বিগত চার বছর ধরে অদ্যাবধি নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মীরা বালা দত্ত জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বিনা বেতনে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী ও সন্তানরা তাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। মনেই হয় না চাকরি থেকে তিনি অবসরে গেছেন। আজীবন তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে যেতে চান। প্রধান শিক্ষক প্রতাপ কুমার দত্ত জানান, সহকারী শিক্ষক মীরা বালা দত্ত স্কুল ও শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। তিনি শুধু শিক্ষক হিসাবেই সফল নন, মা হিসেবেও অত্যন্ত সফল। প্রায় চার বছর হলো অবসরে গেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি আগের মতোই যথাসময়ে স্কুলে আসেন, পাঠদান (শ্রেণি কার্যক্রম) করেন। তিনিসহ স্কুলে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। কারোরই মনে হয় না যে তিনি অবসরে গেছেন। বিনাপারিশ্রমিকে নিয়মিত পাঠদানের এমন ঘটনা খুবই বিরল।

বাংলাদেশ শিক্ষা/এফএ

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

লিভার সিরোসিস কতটা মারাত্মক

লিভার সিরোসিস কতটা মারাত্মক

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে যা করবেন

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে যা করবেন

বিনা পয়সার শিক্ষক

বিনা পয়সার শিক্ষক