ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বিষয়ে আমার মতামত

ফরিদ আহাম্মদ

২০২১-১১-১৩ ১৪:৩৯:২০ /

ফাইল ছবি: ফরিদ আহাম্মদ

 

শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হল প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নতি না হলে দেশের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নতি আশা করা যায় না।কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তখনই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় যখন তার ব্যবস্থাপনা পরিষদ(ম্যানেজিং কমিটি) ভালো হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কমিটির অবদান অনস্বীকার্য। তাই সৎ ও যোগ্যতাসম্পন্ন সদস্যদের নিয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় কমিটি গঠন করা জরুরি।

১১ জন সদস্য নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়ে থাকে। সরকারের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী এসএমসির সভাপতির যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে স্নাতক পাস।আমি মনে করি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এসএমসির সভাপতি যদি শিক্ষিত হয় তাহলে দুর্নীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে।বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেশির ভাগই এমএ (স্নাতকোত্তর) পাস। তাই আমি মনে করি এসব উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের পরিচালনার জন্য শিক্ষিত সভাপতি প্রয়োজন।

সভাপতি যদি অশিক্ষিত হয় তাহলে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ করা প্রধান শিক্ষকের জন্য কঠিন হয়ে যায়। সভাপতির অনৈতিক /অযৌক্তিক প্রস্তাবে রাজি না থাকলে শিক্ষকদের সাথে তারা খারাপ আচরণ করে থাকেন।শুধু তাই নয় গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধাবোধ করেননা।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বিষয়ে আমার প্রস্তাব-

সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী এসএমসির সভাপতির যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে অনেক গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক (বিএ) পাস অভিভাবক সদস্য পাওয়া যাবে না এটা ঠিক। সেক্ষেত্র হাইস্কুল প্রতিনিধিকে সভাপতি করার সুযোগ রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে সভাপতির যোগ্যতা না কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

বিকল্প প্রস্তাব-

ছাত্র অভিভাবক সদস্যদের মধ্য থেকে সভাপতি করার ক্ষেত্রে যদি স্নাতক পাস কাউকে পাওয়া না যায় সেক্ষেত্র এইচএসসি পাস সদস্যকে সভাপতি করা হবে। যদি এইচএসসি পাস না পাওয়া যায় সেক্ষেত্র এসএসসি পাস অভিভাবক সদস্যকে সভাপতির জন্য মনোনিত করা যেতে পারে।তবে কোন অবস্থাতেই এসএসসি পাসের নিচে অভিভাবক সদস্যকে সভাপতি করার সুযোগ না রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিদ্যোৎসাহী সদস্য-

সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যোৎসাহী সদস্যের যোগ্যতা এসএসসি নির্ধারণ করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তটি আমি মনে করি সঠিক আছে।কারণ
বিদ্যোৎসাহী সদস্য সাধারণত রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়ে থাকে। তাই বিদ্যোৎসাহী সদস্যের যোগ্যতা যদি কমিয়ে দেওয়া হয় তাহলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু নিরক্ষর ব্যক্তি বা অশিক্ষিত ব্যক্তি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে প্রবেশ করার সুযোগ তৈরি হবে।তখন এসএমসির সভায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। তাই একটি ভালো ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করার জন্য বিদ্যোৎসাহী সদস্য শিক্ষিত হওয়া জরুরি।

প্রতিবছর বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। অনেক সময় এই অর্থই অনঅর্থের মূল হয়ে দাড়ায়। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বিশেষ করে সভাপতি যদি অসৎ হয় হয় তাহলে উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাঘাত ঘটে।অর্থ আত্মসাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে কমিটির সভাপতি যদি শিক্ষিত ও সৎ হয় তাহলে প্রধান শিক্ষক অসৎ হলেও অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থাকেনা। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বিদ্যালয় পরিচালিত হয়।

পরিশেষে বলব, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।তাই বাস্তবসম্মত নীতিমালা তৈরির মধ্য দিয়ে শিক্ষিত ও সৎ সদস্যদের দিয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাননীয় মহাপরিচালক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

লেখক: ফরিদ আহাম্মদ( জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০১৮),সহকারী শিক্ষক,গোজাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,নালিতাবাড়ী,শেরপুর। 
Chief Admin:PTG - Primary Teachers Guild
E-mail:[email protected] 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বিষয়ে আমার মতামত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বিষয়ে আমার মতামত

প্রাথমিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান পরিপত্র বহাল রাখার আবেদন

প্রাথমিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান পরিপত্র বহাল রাখার আবেদন

শিক্ষকের শাসন ছাড়া কমিটি গঠন করে কি নৈতিকতা শেখানো যায়?

শিক্ষকের শাসন ছাড়া কমিটি গঠন করে কি নৈতিকতা শেখানো যায়?