ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২

যে কারণে নিয়োগের সুপরিশপ্রাপ্তরা নিয়োগ পাচ্ছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২১-১২-২৫ ০৯:৩৫:৫৬ /

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব গভর্নিং বডির কাছ থেকে সরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কাছে ন্যস্ত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি আনা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শীতার অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পেশায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য ৩৮ হাজার ২৮৬ জন চাকরিপ্রার্থীর অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগের সুপারিশ পাওয়া সবার পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হয়নি। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হবে। চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও কাজে যোগ দিতে না পারায় হতাশ নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা।

এনটিআরসিএ এর ৩০ মার্চ (২০২১) তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম যাচাই শেষে ওয়েবসাইটে সুপারিশপত্র প্রকাশ করা হবে। এরপর প্রার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা ২৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করেন। তবে গত আড়াই মাসেও শেষ হয়নি পুলিশ ভেরিফিকেশন।

প্রাথমিকভাবে সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থী পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়টি ছিল না। পুলিশ ভেরিফিকেশন না থাকায় প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা জানান, সুপারিশ পাওয়া সবার পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ সূত্র বলছে, আমরা আন্তরিকতা নিয়েই পুলিশ প্রতিবেদন শেষ করার কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরপরও কোথাও থেকে ধীর গতির অভিযোগ পেলে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। এরপর মৌখিক পরীক্ষা হয় ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি।

এনটিআরসিএ জানায়, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এ বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ৪ এপ্রিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। ১৫ জুলাই ৩৮ হাজার ২৮৬টি পদে নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১০টি এমপিওভুক্ত পদে ও ৩ হাজার ৬৭৬টি নন-এমপিও পদে নিবন্ধিত প্রার্থীর নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা// আলম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

অজুহাত দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে না

অজুহাত দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে না

দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়

দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়

চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধিসহ ৪ দফা দাবিতে  মানববন্ধন

চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধিসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন