ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

প্রাপকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রসঙ্গঃ সমস্যা সমাধান ও ১০ম গ্রেড

মো. ফারুক হোসেন

২০২২-০৪-১৮ ২২:০০:৫৯ /

ফাইল ছবি
প্রাপক,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

প্রসঙ্গ--প্রাথমিকে নানাবিধ সমস্যা সমাধানসহ প্রাথমিক শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড।

মহাত্মন,
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মূল কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করছেন। আপনি তথা আপনার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী গতিশীলতা লক্ষ্য করছি যা এখানে দু’কলম লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয় এবং তা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সকল সদস্যগণ অবগত,তবুও কিছু আলোকপাত করা দায়িত্ববোধ মনে করছি যেমনঃ
১. প্রাথমিকে ১০০% শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান,
২.জানুয়ারীতেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই তুলে দেয়া,
৩. শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সি-ইন-এড এর পরিবর্তে ডিপিএড প্রশিক্ষণ প্রদান,
৪. ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান,
৫. প্রতি বছর বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে( স্লিপ,রুটিন মেরামত,ক্ষুদ্র মেরামত,বৃহৎ মেরামতসহ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ ইত্যাদি খাতে) কোটি কোটি টাকা বরাদ্দকরণ এবং
৬. ২৬ হাজার রেজিঃ বেঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক জাতীয়করণ।
এ ছাড়াও আরো অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ বর্তমান সরকার তথা সরকার প্রধান হিসেবে আপনি গ্রহন ও বাস্তবায়ন করেছেন যা একজন শিক্ষক হিসেবে চিরকৃতজ্ঞ। তাই তো আপনি শুধু একজন যোগ্য, দক্ষ রাজনৈতিক নেতাই নন পাশাপাশি আপনি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের দিক থেকেও সকল মানবিক গুণাবলীর অধিকার সম্পন্ন, যা আপনার সকল কর্মযজ্ঞে লক্ষণীয়। যে কোন জাতীয় বা একটি দপ্তরের মৌলিক সমস্যাবলী আপনার হস্তক্ষেপেই সমাধান হয়ে আসছে,তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমিও আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সমস্যা আপনার সদয় দৃষ্টি গোচরে আনার চেষ্টা করছি।

১. আত্মসম্মানজনক সমস্যা,
‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড’ যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। এ কথা জলের মতো পরিষ্কার।শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা যদি মানসম্মত না হয় উপরের শিক্ষা কখনই মানসম্মত হবে না। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এবং মেরুদণ্ডের কারিগর আমরা শিক্ষক তথা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনকারী প্রাথমিক শিক্ষক এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। সেই কারিগর যখন আত্মসম্মান নিয়ে দুঃচিন্তায় থাকে সেক্ষেত্রে কাঙ্খিত শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কিছুটা হলেও ব্যহত হয়।

তুলনামূলকভাবে বেতন ভাতা অন্যান্য দপ্তরের জনবলের থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনেক কম, বিশেষ করে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের বেতন ভাতা একেবারেই নিম্নমানের। এইচ,এস,সি পাশ অন্য দপ্তরের একজন ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা অথচ প্রাথমিকে সহকারি শিক্ষক পদটি যে কোন শ্রেণির তাও সুস্পষ্ট নয় (পরোক্ষভাবে তৃতীয় শ্রেণি)।

বাংলাদেশ সরকারের এমন কোন দপ্তর নেই যেখানে প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্যবহার করা হয় না, অবশ্য এ আমি নেতিবাচক দিক হিসাবে দেখি না বরং ইতিবাচক হিসাবে নিয়ে নিজে গর্ববোধ করি। বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের বাইরেও আমরা প্রাথমিক শিক্ষক সাফল্যের সঙ্গে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করি। যেমনঃ স্বাস্থ্য সেবা, স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন, আদমশুমারী, পরিবারের সংখ্যা (খানা গণনা), ভিক্ষুক জরিপ সহ অসংখ্য দায়িত্ব সততার সাথে পালন করি আমরা প্রাথমিক শিক্ষকগণ এবং এসব কার্যক্রম চলমান।

২. অন্যান্য দপ্তরের সাথে কর্মঘন্টার বৈষম্য,
বাংলাদেশের সকল দপ্তরেরর জনবল দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করেন। আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি মাত্র একদিন।অন্যান্য দপ্তরের সময়সূচী সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আমাদের সকাল ৯টা থেকে ৪;৩০টা পর্যন্ত। অন্যান্য দপ্তরের জনবল এখনো মনে করেন বৃহস্পতিবার অর্ধ্বদিবস।

একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে দীর্ঘসময় বিদ্যালয়ে ধরে রাখা কষ্ট করে সম্ভব। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তারা দীর্ঘসময় বিদ্যালয়ে অবস্থানের কারণে বিশেষ করে ৩ টার পর শিক্ষার্থী প্রায়ই অমনোযোগী হয়ে পড়ে। সে কারণে তাদের সঠিকভাবে শিক্ষা দান করা একজন শিক্ষক হিসাবে খুবই কষ্টসাধ্য বলে আমি মনে করি।

৩. পদোন্নতির সমস্যা,
অন্যান্য দপ্তরে একজন পিয়ন পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা পর্যন্ত হন। আমাদের ক্ষেত্রে শুধু সহকারি শিক্ষক পদ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে পারি তাও আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বন্ধ আছে। পদোন্নতির বিষয়টি পরিষ্কার করছি কাউকে ছোট করার জন্য তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরিনি বরং আমাদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক চিত্র তুলে ধরলাম মাত্র।

৪. প্রধান ও সহকারী শিঃ পদের বেতনভাতার ব্যবধান,
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে প্রধান ও সহকারি শিক্ষক পদ একই বেতন-ভাতা ছিল, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বর্তমানে প্রধান ও সহকারি শিক্ষক পদের বেতন-ভাতার দিক থেকে বিরাট পার্থক্য হয়ে তিন ধাপ কমবেশি হয়েছে । নিশ্চয় এমন ব্যবধান কারই কাম্য নয়।অবশ্য অবশেষে সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেড বাস্তবায়ন করা হয়েছে,যা হতাশাব্যঞ্জক! স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে প্রধান ও সহকারি শিক্ষক পদ একই বেতন-ভাতা ছিল, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বর্তমানে প্রধান ও সহকারি শিক্ষক পদের বেতন-ভাতার দিক থেকে বিরাট পার্থক্য হয়ে তিন ধাপ কমবেশি হয়েছে, নিশ্চয় এমন ব্যবধান কারোরই কাম্য নয়। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে মাননীয় প্রগম প্রতিমন্ত্রী, জনাব জাকির হোসেন মহোদয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেছেন প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেড ও সহকারি শিক্ষক ১১তম গ্রেড প্রদানে সরকার কাজ করছে, দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হবে বিভিন্ন পত্রিকার খবরের সূত্রমতে)।কিন্তু আজও প্রধান শিক্ষক পদটি ১০ম গ্রেড আলোর মুখ দেখেনি।পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মহামান্য আদালের দ্বারস্ত হলে, মহামান্য আদালত ১০ম গ্রেড প্রদানের নির্দেশনা দেন।সহকারী শিক্ষক পদটি বর্তমানে ১৩ম গ্রেড বাস্তবায়িত হয়েছে।এহেন বাস্তবতায় যদি প্রাথমিক শিক্ষকদের (প্রধান ও সহকারী উভয় পদ) ১০ম গ্রেড প্রদান করা না হয় তবে প্রাথমিক শিক্ষকগণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানসিক হীনমন্যতায় ভুগবে।

সমস্যা সমাধানকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নিকট বিনয়ের সাথে তুলে ধরছি এবং আপনার সদয় হস্তক্ষেপেবিনীত সমাধান কামনা করছি,

(১) প্রধান শিক্ষক পদটি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক ২০১৪ খ্রিঃ হতে সত্যিকারের (২য় শ্রেণির বেতন ভাতা সহ) ২য় শ্রেণি পদমর্যাদা ১০ম গ্রেড প্রদানে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন ২৫/২/২০১৯ খ্রিঃ। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকদের পক্ষে মহমান্য আদালতে স্মরণাপন্ন হলে ১০ম গ্রেড প্রদানের নির্দেশনা দেন। (উল্লেখ্য শিক্ষকগণ নিশ্চয়ই আদালতের দ্বারস্ত হতে চান না কিন্তু পরিস্থিতি অনেক সময় যেতে উৎসাহিত করে যা আমি শিক্ষক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কর্তৃপক্ষ যদি আন্তরিকতার সাথে সমাধান করলে মহামান্য আদালতের বিষয়টি কখনোই আসবে না)।

(২) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচী পরিবর্তন করে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ০৩ টা পর্যন্ত করা/সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিদ্যালয় সময়সূচী পরিবর্তন করা;

(৩) সহকারি শিক্ষকদের ১০০% পদোন্নতির (প্রয়োজনে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে) মাধ্যমে মহাপরিচালক পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আপনি আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের অভিভাবক/পিতা-মাতা, আমরা আপনার অধিনস্ত কর্মচারি/সন্তানতুল্য সে কারণে আপনিই আমাদের মৌলিক দাবি/আবেদনের বিষয়ের মূল কান্ডারী। আমার বিশ্বাস প্রাথমিক শিক্ষার কান্ডারী, বর্তমান সরকার প্রধান, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা ওয়াজেদ মহোদয় আমাদের উপস্থাপিত বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আমাদের প্রতি সদয় হবেন।

অতএব প্রার্থনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার কাণ্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ আমাদের মাত্র ক’টি গুরুত্বপূর্ণ সমাস্যা সমাধানে উন্নয়নের মডেল, বর্তমান সরকার প্রধান হিসেবে মূল কান্ডারীর ভূমিকা পালন করতঃ প্রথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রাথমিক শিক্ষকদের আত্নমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করণে আপনার সুমর্জি হয়।

বিনীত,
মোঃ ফারুক হোসেন
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত),
বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

বিডিশিক্ষা// এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি: জ্যেষ্ঠতা নাকি বিভাগীয় পরীক্ষা?

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি: জ্যেষ্ঠতা নাকি বিভাগীয় পরীক্ষা?

নিম্নগ্রেডের চাকুরীজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষেরাই ভোগেন সবসময়

নিম্নগ্রেডের চাকুরীজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষেরাই ভোগেন সবসময়

প্রাপকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রসঙ্গঃ সমস্যা সমাধান ও ১০ম গ্রেড

প্রাপকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রসঙ্গঃ সমস্যা সমাধান ও ১০ম গ্রেড