ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি: জ্যেষ্ঠতা নাকি বিভাগীয় পরীক্ষা?

মোঃ ফারুক হোসেন

২০২২-০৪-২৮ ১২:০৩:২৬ /

 

অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমার চাকরিজীবনের বাস্তব উদাহরণ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।যদিও বিষয়টি আমার চাকরিজীবনে একটি হোঁচট খাওয়ার উপক্রম তবুও শেয়ার করছি,কারণ শুধু মেধা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কতটা ফলপ্রসূ তা উপলব্ধির জন্য। 

আমি সপ্রাবিতে নিয়োগ পেয়েছে ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে।সবে ডিগ্রী (বিএ) পাশ করা তরুণ এক যুবক মোঃ ফারুক হোসেন, সহকারী শিক্ষক, ১২নং গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি।ছাত্রজীবন শেষ করে মাত্র তিন বছরেই চাকরি।বুঝতেই পারছেন ভাবখানা কেমন হওয়ার কথা!সেইরকম শার্টপ্যান্ট পরা যুবক শিক্ষক সেই সাজুগুজু করে গেলাম প্রথম শ্রেণির সম্ভবত বাংলা বিষয়ে পাঠদানে।মনে মনে ভাবছি আমি ডিগ্রী পাশ করা মাষ্টার,প্রথম শ্রেণিতে পাঠদান কোন বিষয় হলো!

যাক গে অবশেষে ঢুকে পড়লাম শ্রেণিকক্ষে!জীবনের প্রথম পাঠদান!সালাম বিনীময় শেষে শুরু করলাম পাঠদান কার্যক্রম!বিধিবাম,আমার সেই ডিগ্রী পাশ মনে হয় নিমিষেই শেষ হলো!হঠাৎই একজন শিক্ষার্থী যাকে আমরা সব শিক্ষক আদর করে ডাকতাম বটের বুড়ী Momena Momo, (বর্তমানে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স অধ্যায়ন করছে)  প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো আমাকে,স্যার কী বুঝাচ্ছেন? আপনার পড়া ঠিকমত বুঝতে পারছি না! আমি হতবাক হয়ে, কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করলাম। অতপর শিক্ষার্থীদের আমি আসছি বলে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করে শিক্ষক অফিস কক্ষে গেলাম।

অফিসে গিয়ে আমার পরম শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক জনাব আনোয়ারুল ইসলাম স্যারের সাথে বিষয়টি আলোচনা করলাম এবং তার পরামর্শমূলক উপদেশ গ্রহন করে আবার শ্রেণিকক্ষে গমণ করলাম এবং পাঠদান কার্যক্রম সমাপ্ত করলাম।হ্যাঁ অনেকেই আমার বাস্তবতাকে মনে নিতে না পারলেও মেনে নিতে হবে।শুধু মেধা দিয়ে সবকিছুর সুফল পাওয়া কতটা সম্ভব তা আমার বোধগম্য না,অবশ্যই মেধা + অভিজ্ঞতা = ১০০% সফলতা সম্ভব।

তরুণ শিক্ষকবন্ধুরা হযতোবা আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু বাস্তবতায় অভিজ্ঞতার কতটা প্রয়োজন তা সরাসরি কার্যক্রমেই বুঝা যায়।প্রাথমিক পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি কতটা শিক্ষক সহায়ক তা সময় বলে দিবে!প্রাথমিকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের বর্তমান সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক তবে তা চালু করার পূর্বে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। 

জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের জন্য পদোন্নতি এভাবে হতে পারে যেমন, যাদের চাকরি ১৫-২৫ বছর হচ্ছে তাদের জন্য নির্ধারিত পদে পদোন্নতি দেয়ার পর বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির বর্তমান সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে সবার জন্য ভালো হতো।
আমার এহেন নিবেদনে হয়তোবা অনেকে প্রম্ন ছুঁড়ে দিতে পারেন যে, তাহলে কী জ্যেষ্ঠ শিক্ষকগণ মেধাহীন?না জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের কখনোই মেধাহীন বলছি না।বলছি, এ জন্যই যে ১৫-২৫ বছর পূর্বের মেধা কখনোই ১৫-২৫ বছর পরে এসে তা ১০০% কার্যত বাস্তবে থাকে না! 

প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশ্যই অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেয়ায় শ্রেয় কারণ একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ভালো করেই জানেন (বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করে) কিভাবে শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জন করতে হয়!যা তরুণ শিক্ষকগণ ততটা বাস্তবায়নে অগ্রণি ভূমিকা পালন করতে পারবেন না-এটাই অপ্রিয় সত্য এবং বাস্তবতা!

অবশ্যই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমি বা আমরা বদ্ধপরিকর।প্রাথমিকে পদোন্নতির বর্তমান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার পূর্বে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সদয় ও নেক দৃষ্টি কামনা করছি।


লেখক: প্রধান শিক্ষক  (ভারপ্রাপ্ত),
বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি: জ্যেষ্ঠতা নাকি বিভাগীয় পরীক্ষা?

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি: জ্যেষ্ঠতা নাকি বিভাগীয় পরীক্ষা?

নিম্নগ্রেডের চাকুরীজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষেরাই ভোগেন সবসময়

নিম্নগ্রেডের চাকুরীজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষেরাই ভোগেন সবসময়

প্রাপকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রসঙ্গঃ সমস্যা সমাধান ও ১০ম গ্রেড

প্রাপকঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রসঙ্গঃ সমস্যা সমাধান ও ১০ম গ্রেড