ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

পাঠ্যবই ছাপা হতে দেরি হওয়ায় কালো তালিকা ভুক্ত হলো যেসব মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান

অনলাইন ডেস্ক

২০২২-০৫-০৯ ০১:০১:২৪ /

ফাইল ছবি

বছরের শুরুতে নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যবই দিতে না পারায় ২৬টি শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুর্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এসব প্রতিষ্ঠান এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত এনসিটিবির বই ছাপার কাজে অংশ নিতে পারবে না।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান  মো- মশিউজ্জামান  বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রতিবছরের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরে তা দেওয়া যায়নি। এবার বই ছাপার কাজের জন্য পুনঃ দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছিল। এ জন্য সময়মতো বই দেওয়া, নিয়ে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন সংশিষ্ট ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর “অবহেলার কারণে বই ছাপার'কাজে আরও দেরি হয়। ফলে সব শিক্ষার্থী সময়মতো বই হাতে পায়নি। এ বছর মোট সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থীকে ৩৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি পাঠ্যবই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে।


এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, শাস্তির মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র অনুযায়ী পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দরপত্রের সময়ের চেয়ে অস্বাভাবিক দেরি করেছে। ২৯ দিন বা তারও বেশি দিন দেরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো শাস্তির মুখে পড়েছে। আরও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২৮ দিন পর্যন্ত দেরি করেছে যারা, সেগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। এনসিটিবির সচিব মোসা. নাজমা আখতারের সই করা চিঠি দিয়ে শাস্তির মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৭টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৫১ দিনের বেশি সময় পর বই দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান  আগাী শিক্ষাবর্ষ (২০২৩) থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর এনসিটিবির বই ছাপার দরপত্র অংশগ্রহণের ক্ষেতে অযোগ্য থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঢাকার অক্ষর বিন্যাস প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, সেডনা প্রিন্টিং প্রেস আ্যান্ড পাবলিকেশনস, প্লাসিড প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজেস, মনির প্রেস আ্যান্ড পাবলিকেশনস, আবুল প্রিন্টিং, মেসার্স টাঙ্গাইল প্রিন্টার্স, হক প্রিন্টার্স, মেসার্স নাজমুন নাহার প্রেস, বনফুল আর্ট প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, ওয়াল্টার রোডের শিক্ষা সেবা প্রিন্টার্স, আমাজান প্রিন্টিং, উজ্জ্বল প্রিন্টিং প্রেস, বুলবুল আর্ট প্রেস, প্রেস লাইন, নারায়ণগঞ্জের  কাঁচপুরের এইচআর প্রিন্টার্স আ্যান্ড পেপার সেলার ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মহানগর অফসেট প্রিন্টিং প্রেস।

ঢাকার ইউসুফ প্রিন্টার্স ও বগুড়ার শরীফা প্রেস অ্যান্ড প্রাবলিকেশনসকে তিন বছরের জন্য কালোতালিকাতুক্ত করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকার জিতু অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স এবং আর এম দাস রোডের ওয়েব টেক প্রিন্টার্সকে। এক বছরের জন্য কালোতালিকাতুক্ত করা হয়েছে ঢাকার বাকো অফসেট প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রেস, এ বি কালার প্রেস ও মেসার্স প্রিন্ট প্লাসকে।

অঙ্গীকারনামা (৩০০ টাকার স্টাম্পে) দিয়ে ছাড় পেয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো ঢাকার সোমা প্রিন্টিং প্রেস, রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস, মেরাজ প্রেস আান্ড পাবলিকেশনস, লেটার এন কালার লি. সমতা প্রেস ও কাশেম আ্যান্ড রহমান প্রিন্টিং প্রেস।


বাংলাদেশ সুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান  বলেন, “যারা কেবল দেরি করে বই দিয়েছে, তাদের কালোতালিকাতুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে নিঙ্সমানের বই দেওয়ার অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই এনে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।' তিনি বলেন, “এখানে এনসিটিবিরও দায় আছে। সক্ষমতা যাচাই করে কাজ দেওয়ার কথা। কিন্তু এটি সঠিকভাবে না হওয়ায় অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও কাজে পেয়ে যায় ।

গত বছরও পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সময়ের মধ্যে সরবরাহ-না করাসহ নানা ধরনের অনিয়মে ১৪ প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাতুক্ত করা হয়। এ কারণে সেবারও খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যবই দিতে বেগ পেতে হয়েছিল। এনসিটিবি  বলছে, নির্ধারিত সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। 

প্রতিবছরই পাঠ্যপুস্তক ছাপা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠে। এখান থেকে বেরোনোর উপায় কী এমন প্রশ্নে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, এনসিটিবির যেহেতু নিজস্ব মুদ্রণব্যবস্থা নেই, তাই বই ছাপতে মুদ্রণকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই তারা এনসিটিবিকে নানাভাবে চাপে ফেলে। কখনো কখনো কালোতালিকাতুক্ত করে আবার ভুলেও যাওয়া হয়। তাই এখান থেকে বের হওয়ার একটাই উপায় এনসিটিবির নিজন্ব উদ্যোগে  মুদ্রণের ব্যবস্থা করা।

বাংলাদেশ শিক্ষা/জাআ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

এমপিও জটিলতায় পরা শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে এনটিআরসিএ

এমপিও জটিলতায় পরা শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে এনটিআরসিএ

গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

পদ্মা সেতুর টোল কমানোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় কমিটি

পদ্মা সেতুর টোল কমানোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় কমিটি