ঢাকা, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকের টাইমস্কেল সমস্যার স্থায়ী সমাধান

জাফর আহম্মেদ

২০২২-০৫-১৯ ০০:৫২:৪০ /

 

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ১৭ মে ২০২২ তারিখে উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন এর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার-সংক্ষেপ অনুমোদন করেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সার-সংক্ষেপ অনুমোদনের পর Primary schools (Taking Over) Act-১৯৭৪ এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখ সরকার অধিগ্রনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা ২০১৩ জারি করা হয় (সংলাগ-১)। উক্ত বিধিমালার বিধি ২(গ) এ বলা হয়েছে “কার্যকর চাকুরিকাল" অর্থ “কোন শিক্ষক অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে একাদিক্রমে যে মেয়াদে চাকুরি করিয়াছেন উহার ৫০%।' একই বিধিমালার বিধি ৯ এর উপবিধি (১) ও (২) এ কার্যকর চাকুরিকাল এর ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতি প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিধি ৯ উপবিধি (৩) এ বলা আছে “নিয়োগ বিধির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে, উপবিধি (১) ও (২) এর অধীনে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষকগণ পদোন্নতি সিলেকশন গ্রেড এবং প্রযোজ্য টাইমস্কেল প্রাপ্য হইবেন।" উক্ত বিধিমালার বিধি ১০ এ উল্লেখিত আছে “পেনশন ইত্যাদি। কোন শিক্ষকের পেনশন যোগ্য চাকুরিকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাহার কার্যকর চাকুরিকাল গণনা করা হইবে।”

২। উক্ত বিধিমালা ২০১৩ এর অধীনে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ এবং শিক্ষকদের আত্মীকরণ করা হয়। শিক্ষক আত্মীকরণের পর উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণ করা হয়। উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদন হওয়ার পর শিক্ষকগণ বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।

৩। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয়করণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের জন্য চাকুরিকাল গণনা ও ছুটিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদির প্রাপ্যতা নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ৫ জুন ২০১৪ তারিখে ৮৮৯ নং একটি পরিপত্র জারী করা হয় (সংলাগ-২)। পরিপত্রের ৩.০১ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, টাইমস্কেল পাপ্যতা চাকুরী সরকারীকরণের তারিখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কার্যকর চাকুরিকালের ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে।

৪। জাতীয়করণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেতন নির্ধারণের জন্য চাকুরীকাল গণনা ও ছুটিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদির প্রাপ্যতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হতে সচিব, অর্থ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয় (সংলাগ-৩)।

৫। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের পত্রের প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের, বাস্তবায়ন অনুবিভাগ হতে ১২ আগষ্ট ২০২০ তারিখে একটি পত্র জারি করা হয় (সংলাগ-৪)। পত্রে নিম্নরুপ সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়:

(i) অধিগ্রহনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের শিক্ষক (চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ২(গ) এ উল্লিখিত ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ একই বিধিমালার বিধি ১০ এ উল্লিখিত শুধু পেনশন গণনারক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ না করে উল্লিখিত বিধিমালা ২(গ), ৯ এবং ১০ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ০৫/০৬/২০১৪ খ্রিঃ তারিখে ৮৮৯ নং পরিপত্রের টাইমস্কেলগণনা সংক্রান্ত ৩.০১ অনুচ্ছেদ বিধিসম্মত নয় বিধায় এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি আদেশ সংশোধনপূর্বক অতিরিক্ত প্রদানকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য।

(ii) উল্লিখিত বিষয়ে আর্থিক সংশ্লেষ ছিল বিধায় অর্থ বিভাগের সম্মতি ছাড়া হিসাব রক্ষণ অফিসসমূহ কর্তৃক টাইমস্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিল পাশ করা জিএফআর (GRF) বিধি ৫০ এর সুস্পষ্ট লংঘন বিধায় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের দায়ী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ বিধি মোতাবেক আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

৬। অর্থ বিভাগের ১২ আগষ্ট ২০২০ তারিখের উল্লিখিত পত্রের প্রেক্ষিতে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকগণ অর্থ বিভাগের এ আদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন। প্রাশাসনিক ট্রাইবুনাল কর্তৃক অর্থ বিভাগের ১২ আগষ্ট ২০২০ তারিখের স্মারকের কার্যকারিতা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত আদেশ প্রদান করেন।

৭। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পত্রের কারণে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষক পরিবারের অবসরোত্তর আর্থিক সুবিধাদি উত্তোলনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় উক্ত শিক্ষক পরিবার আর্থিক কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে টাইমস্কেল কর্তন করায় সকল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

৮। এমতাবস্থায়, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইমস্কেল সংক্রান্ত অর্থ বিভাগ হতে জারীকৃত ১২/৮/২০২০ তারিখের ৯২ সংখ্যক পত্রটি প্রত্যাহার পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য সোসাইটি এবং জাতীয়করণকৃত শিক্ষক মহাজোটের আবেদনদ্বয় নির্দেশক্রমে এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করা হলো।

বাংলাদেশ শিক্ষা/এফএ

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বাতিল হয়েছে যে কারণে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বাতিল হয়েছে যে কারণে

যে কারণে গ্রাম্য সালিশে শিক্ষককে ২ লাখ টাকা জরিমানা

যে কারণে গ্রাম্য সালিশে শিক্ষককে ২ লাখ টাকা জরিমানা

প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়নে যা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রাথমিক শিক্ষার মান-উন্নয়নে যা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক