ঢাকা, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

শিশুর পঠন ও লিখন দক্ষতা অর্জনে করণীয়

মোঃ মাসুদুল হাসান

২০২৩-০১-০৩ ০১:০৭:১৪ /


প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ অর্জনের জন্য; সর্বোপরি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য শিশুদের পঠন ও লিখন দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা আবশ্যক। একটি শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষকের কাছ থেকে বর্ণ  (Letter) ও ধ্বনির ( Sound of letter) সাথে পরিচিত হয়। এর পর সে ধীরে ধীরে  শিক্ষক ও পিতা-মাতার সহযোগিতায় বর্ণের সঠিক আকার-আকৃতি, বর্ণ লেখার সঠিক প্রবাহ আয়ত্ত করে। পরবর্তী ধাপে একটি শিশু একাধিক বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত শব্দ, যুক্ত বর্ণ, শব্দের অর্থ, শব্দের সাথে সম্পর্কীত ছবি (Image related to Sound) তার মনের মধ্যে স্হায়ীভাবে গেঁথে ফেলে।

পর্যায়ক্রমে একটি শিশু একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত বাক্য পড়তে শেখে এবং বাক্য লিখতে শেখে। বাক্যের মাধ্যমে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে শেখে। এই প্রক্রিয়ায় সে নিজের পাঠ্য বইয়ের বাক্যগুলো ধীরে ধীরে পড়তে শেখে এবং বাক্যের মাধ্যমে কি বোঝানো হয়েছে তা বুঝতে শিখে অর্থাৎ শিশুর বোধগম্যতা (Comprehensibility)  অর্জিত হয়। সে নিয়মিতভাবে পড়ার চর্চা (Practice of Reading) করতে করতে পর্যায়ক্রমে পঠনের ক্ষেত্রে  সাবলীলতা (Fluency of Reading) অর্জন করে অর্থাৎ সে স্বাভাবিকভাবে কোন লেখা পড়তে পারে। নিয়মিতভাবে লেখার চর্চা করতে করতে তার হাতের লেখার গতি, সৌন্দর্য এবং মাধুর্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। পঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাবলীলতা ও বোধগম্যতা অর্জন এবং লিখনের ক্ষেত্রে সঠিকতা ও দক্ষতা অর্জন করার জন্য শিশুকে তার শিক্ষক ও বাবা-মার তত্ত্বাবধানে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় এবং নিয়মিত চর্চা অব্যাহত রাখতে হয়। শ্রেণী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু তার প্রতিটি পাঠ্য বইয়ের পাঠসমূহ পড়তে পারে, আয়ত্ত করতে পারে, পাঠ সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে লিখতে পারে; সর্বোপরি প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ অর্জিত হয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর অনাগ্রহ, বাবা-মায়ের অসচেতনতা ও উদাসীনতা এবং শিক্ষকের অবহেলার কারণে অনেক শিশু পঠন ও লিখনের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। শিশু পঠন ও লিখনে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি নিজ ক্লাশের বইও দেখে দেখে পড়তে পারেনা; পাঠ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ দেখে দেখে লিখতেও পারেনা। এই করুন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ধাপে ধাপে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা আবশ্যক।প্রতিটি বিদ্যালয়ে পঠন ও লিখনে দুর্বল শিশুদের  তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। শিশুদের দুর্বলতার ধরন চিহ্নিত করতে হবে। পঠন ও লিখনে তাদের নির্ধারিত সমস্যাসমূহ সমাধানের জন্য বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষকের মাঝে লিখিত দায়িত্ব বন্টন করে দিতে হবে। 

প্রতি সপ্তাহে এবং প্রতি মাসে বিদ্যালয়ের চিহ্নিত দুর্বল শিশুদের কতটা উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তার রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করতে হবে। শিশুর দুর্বলতা না কাটা পর্যন্ত এই ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের পঠন ও লিখনে শিশুদের উন্নয়ন সাধনের এই কার্যক্রম একটি সুবিন্যস্ত মনিটরিং ছকের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তাদারকী করতে হবে। সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিকের সকল শিশুর পঠন ও লিখন দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

লেখক: মোঃ মাসুদুল হাসান,উপজেলা শিক্ষা অফিসার, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন

মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের কার্যকরী উপায়

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের কার্যকরী উপায়

কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন প্রয়োজন

কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন প্রয়োজন