ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের কার্যকরী উপায়

মোঃ মাসুদুল হাসান

২০২৩-০১-০৫ ১৪:৩৮:৪৬ /


মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের প্রতি শিশুদের আকৃষ্ট করতে, শিশুর উপস্থিতি বাড়াতে এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিতকরণে একটি সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। এ সংক্রান্ত সুপারিশসমূহ পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা হলো।

শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের সম্পর্কোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরী। শিক্ষকের পাঠদান ও আচরণের কারণে শিক্ষার্থীর মনে ভীতির সঞ্চার হলে উক্ত শিক্ষকের পাঠদান কখনো ফলপ্রসূ হয় না। একজন শিক্ষকের ভূমিকা হবে কখনো অভিভাবকসুলভ আবার কখনো বন্ধুসুলভ। শিক্ষকের পাঠদান প্রক্রিয়া আনন্দদায়ক হবে এবং শিক্ষার্থীকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ শিশু বান্ধব এবং আকর্ষণীয় হতে হবে। বিদ্যালয়ে শিশু পার্ক সহ খেলাধুলার পর্যাপ্ত উপকরণ থাকতে হবে। পড়াশুনার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুব্যবস্থা থাকতে হবে; যেমন: গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি, ছড়া ও কবিতা লেখা ইত্যাদি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে; যেমন: স্কুল কালচারাল ক্লাব, স্কুল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, স্কুল ডিবেটিং ক্লাব, ক্লাস পার্টি, স্টুডেন্ট অফ দ্য ডে, স্টুডেন্ট অফ দ্যা মান্থ এবং নিয়মিত উপস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে অনেক সময় বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সমস্যাসমূহ দূরীকরণে বিদ্যালয়কে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে; যেমন: দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক অসুস্থতায় স্কুল হেলথ সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ইত্যাদি। অনেক সময় কন্যা শিশুরা বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুচক্রের কারণে স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। কন্যা শিশুদের জন্য "কন্যা শিশু সুরক্ষা কর্ণার" স্থাপন করতে হবে এবং এই কর্ণারে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যানিটারী ন্যাপকিন, তুলা, টিস্যু, হ্যান্ড ওয়াশ,সাবান, ঢাকনাযুক্ত বিন ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকতে হবে। ইভটিজিং প্রতিরোধে "কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল" স্থাপনের মাধ্যমে কার্যকরী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় নিয়মিত করতে স্টুডেন্ট ব্রিগেড এর কার্যক্রম শক্তিশালী করতে হবে। নিয়মিতভাবে মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, অভিভাবক সমাবেশ এবং এস এম সি সভা করা আবশ্যক। শিক্ষকবৃন্দের হোম ভিজিট বৃদ্ধি করতে হবে এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে সরাসরি অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিভাবকগণের সাথে যোগাযোগ করা জরুরি।

নিয়মিতভাবে "শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মনিটরিং টুল" এর মাধ্যমে অনিয়মিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করতে হবে। ক্লাস্টার ও উপজেলা পর্যায় হতে প্রতি মাসে প্রতিটি বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির হার এবং শ্রেণিভিত্তিক অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা, শ্রেণী রোল এবং তাদের নিয়মিতকরণে বিদ্যালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ ও মনিটর ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সম্মিনলিতভাবে কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনকভাবে বেড়ে যাবে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ হবে; সর্বোপরি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লেখক: মোঃ মাসুদুল হাসান,উপজেলা শিক্ষা অফিসার,আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন

মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের কার্যকরী উপায়

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের কার্যকরী উপায়

কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন প্রয়োজন

কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন প্রয়োজন