ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

৩ বছর বা ৫ বছর পরপর বদলীর উদ্যোগ না নেয়ার আহ্বান- মোঃ আবুল কাসেম

মতামত

২০২০-০৮-০৮ ১১:২৬:৩৭ /


৩ বছর বা ৫ বছর পর পর প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলীর প্রস্তাব সম্মানিত সিনিয়র সচিব, ও সম্মানিত ডিজি স্যার কে লাইভ প্রোগামে দিয়ে এবং ফেইসবুকে প্রোগ্রামের আগে পরে পোস্ট দিয়ে কিছু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ  অধিকাংশ শিক্ষকের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছেন,যা খুবই দুঃখজনক।আমরা এটি চাই না।

সম্মানিত সুপ্রিয় শিক্ষকবৃন্দ-

পদোন্নতি,  চলতি দায়িত্ব কে স্থায়ীকরণ, উচ্চধাপে ফিক্সেশন, ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড,প্রধান শিক্ষদের বকেয়া টাইমস্কেল, শ্রান্তিবিনোদন ভাতা সহ যে কোন দাবীর মত  বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি অনলাইন বদলী দাবী করে আসছে,যা আজ বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন।কিন্ত ৩ বা ৫ বছর পর বদলীর দাবী আমরা কখনো করিনি।

বিগত ৩০/৭/২০ তারিখ মাননীয় সিনিয়র সচিব মহোদয়ের সাথে কয়েকটি সংগঠনের ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় একজন সহকারি শিক্ষক নেতা এই দাবীটা তোলে।শুধু তাই নয় তার কিছুদিন আগে ঐ  সহকারী শিক্ষক নেতা ফেইসবুকে স্যাটাস দিয়ে ৩ বছর বা ৫ বছর পর বদলীর সুফলের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন  যেহেতু শিক্ষকরাই দাবী তুলছে তখন কর্তৃপক্ষ এটা নিয়ে নড়েচড়ে বসছে।আসলে অনলাইন বদলী নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন প্রতিমন্রী, সিনিয়র সচিব ও ডিজি মহোদয়ের সাথে দেন দরবার করে আসছি। এখানে কোন সময়ই তারা সময় বা বছরের কথা বলেননি।যখন সিনিয়র সচিব ও ডিজি মহোদয়ের  সাথে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকগণ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্তরিক পরিবেশে শিক্ষকদের পক্ষে পজেটিভ কাজ করে যাচ্ছেন, এমতাবস্থায় এ ৩ বা ৫ বছর পর  বদলীর বিষয়টি সুন্দর পরিবেশটাকে শুধু বিঘ্নিত  বা নষ্ট ই করছে না,অধিকাংশ শিক্ষকদের  চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে নিপতিত করেছে। 

 বিশেষ করে আমাদের মহিলা শিক্ষকরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পরছে, এ খবর শুনে।আবার মজার বিষয় হল- লক্ষ্য করে দেখুন,সেসব সংগঠনের  নেতাদের আবার বোধোদয় হয়েছে তারা  পরিবেশ  নষ্ট করে, এখন আবার এভাবে বদলী প্রক্রিয়া না করতে পোস্ট দিচ্ছে।

এ দেশের মাটিতে শিক্ষক নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এ বিষয়টি কেন যে তাদের উপলদ্ধিতে আসল না যে,বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকের বদলীর চেয়ে কঠিন কাজ দ্বিতীয়টি নেই,পৌরসভা,জেলা সদর,ঢাকাসহ সিটিকর্পোরেশন গুলো বা নিজের বাসস্থান বা অবস্থানের কাছাকাছি  বদলী হয়ে আসতে কি পরিমাণ কাঠখড় পুড়াতে হয়,বদলী নামক এ সোনার হরিণটি কে ধরতে। যদি বাধ্যতামুলক বদলী করা হয় তাহলে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি মামলা মোকদ্দমা ও হতে পারে।অধিকাংশ শিক্ষকের স্বার্থের পরিপন্থী   এ ধরনের বদলীর প্রস্তাব যারা দিয়েছেন,তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি,অধিকাংশ শিক্ষকদের স্বার্থে  এ  ধরনের বদলীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে সকল শিক্ষক সংগঠনের  নেতৃবৃন্দকে  যাতে করে এটি না হয় তার পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

সকল শিক্ষকের পক্ষ থেকে ৩ বছর ও ৫ বছর পরপর বদলীর বিষয় টি আমলে না নেয়ার জন্য  এবং এ ধরনের বদলীর বিষয়ে উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য সবিনয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও ডিজি মহোদয়ের প্রতি আমরা সবিনয়ে আবেদন জানাচ্ছি এবং আমরা অনলাইন বদলী চাই তবে কোন সময়ের বাধ্যবাধকতা নয়,শিক্ষকগণ নিজেদের ইচ্ছা ও চাহিদা মাফিক সিনিয়রিটি বজায় রেখে বদলী হবেন।৩ বছর ও ৫ বছর পর পর বাধ্যতামুলক বদলী আমরা চাই না।

লেখক: মোঃ আবুল কাসেম,সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মর্যাদা চাই:ফরিদ আহাম্মদ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের মর্যাদা চাই:ফরিদ আহাম্মদ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ: ফরিদ আহাম্মদ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ: ফরিদ আহাম্মদ