EFT ফরম পূরণেও বুঝা গেলো যে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদটি ৩য় শ্রেণির!

দিদারুল আলম || ২০২০-১২-০৮ ২৩:১৮:৪০

image


অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সচিব মহোদয় নিম্নোক্ত বিষয়াদি সুবিবেচনা করে টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তিদানে সদয় সহানুভূতিরসহিত যৌক্তিক কারণসমূহ দেখার বিনীত অনুরোধ করছি।

০৯/০৩/২০১৪ থেকে ১৪/১২/২০১৫  পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া পাওনা টাইস্কেল থেকে দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর যাবৎ প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকগণ বঞ্চিত হয়ে আছেন।

যৌক্তিক_কারণসমূহ৷

১) বিএস আর বিধি ৪৮(সি) অনুযায়ী নিম্নপদের টাইমস্কেলের বেতনবৃদ্ধির জন্য চাকুরীকাল গননায় উচ্চতর পদের চাকুরীকাল অর্ন্তভূক্ত হইবে উল্লেখ আছে সে হিসাবে টাইমস্কেল প্রদানে কোন বাধা নেই।

২) ৩০/০৬/২০১৫ খ্রি, থেকে ২য় শ্রেনি বিলুপ্ত করার পর ০১/০৭/২০১৫ খ্রি, থেকে ১৪/১২/২০১৫ খ্রি,পর্যন্ত নন গেজেটেড হিসাবে বেতন ভাতা পেয়েছি এবং অদ্যাবধি নন গেজেটেড হিসাবে বেতন ভাতা পাচ্ছি।

৩) ০৯/০৩/২০১৪-এর আদেশে গেজেটেড উল্লেখ করা হয়নি এবং প্রশিদেরকে ১১ তম গ্রেড দেয়া হয়েছে।

৪) ৯/০৩/২০১৪ এর পূর্বেও আমি প্রধান শিক্ষক ছিলাম, এখনো প্রধান শিক্ষকই আছি। এতে আমার পদের কোন পরিবর্তন হয় নাই।

৫) প্রধান শিক্ষকদের কোন সেল্ফড্রয়িং ক্ষমতাও দেয়া হয়নি।

৬) আজ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের বাইনেইমে কোন গেজেট প্রকাশ হয়নি।

৭) এখনও প্রধান শিক্ষকদের সার্ভিস বই বন্ধ করা হয়নি।

৮) প্রধান শিক্ষক পদটি তিন বছর পর পর বদলীযোগ্য নয়।

৯) প্রধান শিক্ষকদের ৩য় শ্রেণির কোড থেকেই বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে।

১০) জাতীয় বাজেটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণির কোন পদ দেখানোই হয় নি।

১১) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১২/০৮/২০১৫-এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে আপাততঃ নন-গেজেটেড ঘোষণা করা হয়েছে।

১২) প্রাগম-এর ০৭/০২/২০১৬-এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে নন-গেজেটেড হিসাবে বেতন-ভাতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৩) নন-গেজেটেড হিসাবে ২০০৯-এর বেতন স্কেলের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্য।

১৪) অর্থ মন্ত্রনালয়ের ১৫/১১/২০১৭-এর পত্রের আলোকে ০৯/০৩/১৪ তারিখের পূর্বে প্রাপ্ত টাইমস্কেলের করেস্পোন্ডিং হয়েছে, যা গেজেটেড কর্মকর্তাদের হয়না।

১৫) ১৯৯৯ বা ২০০০ সনে একই সাথে ও একই দিনে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে একজন ২০০৭-এ প্রধান শিক্ষক পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালে প্রধান শিক্ষক ১১ নং গ্রেডে এবং সহকারি শিক্ষক ১০ম নং গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন/পাবেন।

১৬) ০৯/০৩/২০১৪ থেকে ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর না হলে এ অসঙ্গতি দূর হবে না। একই সাথে নিয়োগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের কারণে এক গ্রেড নিচে বেতন পাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। 

১৭) একজন আট বছর পূর্তির পূর্বেই প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং প্রধান শিক্ষক হিসাবে আট বছর পূর্ণ হয় ০৯/০৩/২০১৪ এর পরে। ফলে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে ২০ বা ২১ বছর চাকুরি করেও প্রধান শিক্ষক কোন টাইমস্কেল পাননি।

১৮) প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকগণ বর্তমানে  নন-গেজেটেড সুবিধাপ্রাপ্ত।

১৯) সর্বশেষ EFT ফরম পূরণেও বুঝা গেলো যে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদটি ৩য় শ্রেণির।

সুতরাং প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ০৯/০৩/২০১৪ থেকে ১৪/১২/২০১৫ পর্যন্ত বকেয়া টাইমস্কেল প্রদানে কোন সমস্যা আছে বলে মনে হয় না।

এমতাবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সচিব মহোদয় উপরোক্ত বিষয়াদি সুবিবেচনা করে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বকেয়া পাওনা টাইমস্কেল প্রদানে সুস্পষ্টভাবে একটি স্পষ্টিকরণ পত্র জারি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

লেখক:টাইমস্কেল বঞ্চিতদের পক্ষে,
দিদারুল আলম,প্রধান শিক্ষক।

প্রধান সম্পাদক - জাফর আহম্মেদ, সম্পাদকের উপদেষ্টা - মোঃ আল হেলাল, আইটি উপদেষ্টা- জরিফ নিলয়, বিজ্ঞাপন ও নিউজ- ০১৮৬৫৪৪০০৩৮, ০১৮৯৩৫৯০৪২০, E-mail: [email protected], Website: www.bd-shikkha.com

বাংলাদেশ শিক্ষা: রোড নং- ০৪, বারিধারা ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা-১২০৬